1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. steeseejep2235@inbox.ru : bobbye34t0314102 :
  5. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  6. sk.sehd.gn.l7@gmail.com : charitygrattan :
  7. chebotarenko.2022@mail.ru : dorastrode5 :
  8. lawanasummerall120@yahoo.com : eltonvonstieglit :
  9. padsveva3337@bk.ru : janidqm31288238 :
  10. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  11. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  12. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  13. incolanona1190@mail.ru : sibyl83l32 :
  14. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
কনস্টান্টিনোপল যেভাবে ইস্তাম্বুল হলো
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৪ অপরাহ্ন

কনস্টান্টিনোপল যেভাবে ইস্তাম্বুল হলো

সাইফুল ইসলাম রুবাইয়াৎ
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৮৯২ বার পড়া হয়েছে
constantinople-istanbul-dinratri.net

ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগরের সংযোজক বসফরাস প্রণালীর তীরে তুরস্কের সবচেয়ে বড় – এমনকি গোটা ইউরোপের সবচেয়ে জনবহুল শহর ‘ইস্তাম্বুল’ এক সময়ে ‘কনস্টান্টিনোপল’ নামে পরিচিত ছিলো। প্রথম রোম সম্রাট কনস্টাইন (রাজত্বকাল ৩০৬-৩৩৭ খৃঃ) ৩২৪ খৃষ্টাব্দে তার সাম্রাজ্যের রাজধানী রোম থেকে এখানে স্থানান্তর করেন এবং ৩৩০ সালের ১১ই মে এটির নাম রাখেন কনস্টান্টিনোপল বা কনস্টাইনের শহর। তখন থেকে এটি যথাক্রমে রোম সাম্রাজ্য (৩৩০ – ৩৯৫ খৃঃ), বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য (৩৯৫-১৪০৪ খৃঃ), ল্যাটিন সাম্রাজ্য (১২০৪-১২৬১ খৃঃ), আবার বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য (১২৬১-১৪৫৩) ও উছমানীয় সামাজ্যের (১৪৫৩-১৯২৩ খৃঃ) রাজধানী ছিলো। উছমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ (রাজত্বকাল ১৪৪৪-১৪৪৬ খৃঃ) ১৪৫৩ সালে শহরটি জয় করে নাম রাখেন ইসলামবুল, অর্থাৎ ইসলামের শহর – যেটির অপভ্রংশ বা তুর্কি রূপ হচ্ছে, ইস্তাম্বুল।

ইতিহাস বলছে – ১৪৫৩ সালের ৬ই এপ্রিল থেকে ২৯শে মে তক অবরুদ্ধ হয় কনস্টান্টিনোপল। এরপর চূড়ান্তভাবে শহরটি উছমানীয় সালাতানাতের অধিকারে আসে। আগে মহান সেলজুক সুলতান আলপ আরসালানও শহরটি জয় করলেও দখল ধরে রাখতে পারেননি।

উছমানীয়দের কনস্টান্টিনোপল বিজয়কে প্রায় ১৫০০ বছর ধরে টিকে থাকা রোম সাম্রাজ্যের সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ বিজয়ের ফলে উসমানীয় সেনাদের সামনে ইউরোপে এগিয়ে যাওয়ার পথে আর কোনো বাধা থাকেনি। খৃষ্টানদের জন্যে এ শোচনীয় পতন ছিলো অকল্পনীয়!

বিজয়ের পর, সুলতান মুহাম্মদ তাঁর রাজধানী এড্রিনোপল থেকে সরিয়ে কনস্টান্টিনোপল বা ইস্তাম্বুলে নিয়ে আসেন। অবরোধের আগে ও পরে শহরের বেশ কিছু গ্রীক ও অগ্রীক বুদ্ধিজীবী পালিয়ে যায়। এদের অধিকাংশ ইতালিতে গিয়ে ইউরোপীয় রেনেসাঁয় সাহায্য করে।

অনেক ঐতিহাসিক বিশ্লেষক, মুসলমানদের কনস্টান্টিনোপলের বিজয় এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতনকে মধ্য যুগের সমাপ্তি হিসেবে দেখেন।

৩৩০ সালে রাজধানী হওয়ার পর থেকে কনস্টান্টিনোপল পরবর্তী ১১শ শতাব্দী ধরে বেশ কয়েকবার অবরুদ্ধ হলেও ১২০৪ সালে চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ছাড়া এটি কেউ দখল করতে পারেনি।

ক্রুসেডাররা কনস্টান্টিনোপলকে ঘিরে একটি অস্থায়ী ল্যাটিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। তবে সাম্রাজ্যের বাকি অংশ বেশ কিছু গ্রীক রাষ্ট্র – বিশেষ করে নাইসিয়া, এপিরাস ও ট্রেবিজন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ গ্রীকরা মিত্র হিসেবে ল্যাটিন শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করলেও বাইজেন্টাইন মুকুটের জন্যেও নিজেদের মাঝে প্রতিযোগিতা করে।

নাইসীয়রা ১২৬১ সালে কনস্টান্টিনোপল দখল করে নেয়। দুর্বল এ সাম্রাজ্যে অল্পই শান্তি ছিলো। এরপর ল্যাটিন, সার্বীয়, বুলগেরীয় ও উছমানীয় তুর্কিরা আক্রমণ করে।

১৩৪৬ থেকে ১৩৪৯ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ব্ল্যাক ডেথ বলে পরিচিত মহামারীতে শহরের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা মারা যায়। এছাড়াও দু শতাব্দী আগে ক্রুসেডারদের আক্রমণে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক আধিপত্য খর্ব হওয়ায় লোকসংখ্যা কমছিলো। ফলে, ১৪৫৩ সালে শহরটি বড় মাঠ দিয়ে আলাদা করা কিছু দেয়াল-ঘেরা গ্রামের সমষ্টি ছিলো। পুরো শহরটির চারদিক পঞ্চম শতাব্দীর থিওডোসিয়ান দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিলো।

১৪৫০ সাল নাগাদ সাম্রাজ্য ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পড়ে। তখন সাম্রাজ্যটি কনস্টান্টিনোপলের বাইরের কয়েক বর্গ মাইল, মারমারা সাগরের প্রিন্স দ্বীপ ও পেলোপন্নিস এবং এর সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিস্ট্রাস নিয়ে গঠিত ছিল। চতুর্থ ক্রুসেডের ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট স্বাধীন ট্রেবিজন্ড সাম্রাজ্য কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে টিকেছিল।

১৪৫১ সালে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ তাঁর বাবার উত্তরাধিকারী হন। মাত্র ১৯ বছর বয়সী একজন তরুণ শাসক হিসেবে কতোটুকু যোগ্য – তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠে। বলকান ও এজিয়ান অঞ্চলে তিনি খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো সফল ব্যক্তি হতে পারবেন না বলেই সবার ধারণা ছিলো। কিন্তু দিন যতোই গড়াচ্ছিলো – ততই তাঁর প্রজ্ঞা ও কৌশল সবার সামনে স্পষ্ট হচ্ছিলো। অভিনব রণকৌশল প্রয়োগ করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন একজন যোগ্য শাসক হিসেবে।

সুলতান মুহাম্মদ সাগরের দিক থেকে শহর অবরোধ করতে একটি নৌবহর গড়ে তোলেন। এটি অংশত গেলিপোলির গ্রীক নাবিকদের নিয়ে গঠিত ছিলো। উছমানীয়রা মাঝারি কামান তৈরীতে দক্ষ – একথা অবরোধের আগে সবার জানা ছিলো। কিন্তু গোলা ছোঁড়ার পাল্লা প্রতিপক্ষের ধারণার বাইরে চলে যায়। অস্ত্রের ক্ষেত্রে উছমানীয়দের এ সক্ষমতা উরবান নামক এক হাঙ্গেরিয়ান (কারো মতে জার্মান) ব্যক্তির কারণে সম্ভব হয়। তার নকশা করা একটি কামানের নাম ছিলো শাহী। এটির দৈর্ঘ্য ছিলো ২৭ ফুট (৮.২ মি) এবং এটি ৬০০ পাউন্ডের (২৭২ কেজি) একটি গোলা প্রায় এক মাইল (১.৬ কিঃমিঃ) দূরে ছুঁড়তে পারতো।

বেশ ক-বার চেষ্টায়ও বালতুঘলুর অধীন উছমানীয় নৌবহরগুলো যখন গোল্ডেন হর্নে প্রবেশ করতে পারছিলো না – তখন অভিনব বুদ্ধি মাথায় আসে সুলতান মুহাম্মদের। তিনি গোল্ডেন হর্নের উত্তরে গালাটার উপর দিয়ে চর্বি মাখানো কাঠের একটি রাস্তা তৈরির আদেশ দেন; অর্থাৎ স্থলপথে নৌকা চালানোর অবিশ্বাস্য ঘটনা!

জাহাজগুলোকে টেনে গোল্ডেন হর্নে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে, বাইজেনটাইনদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। ২৮শে এপ্রিল রাতে উছমানীয় জাহাজগুলো ধ্বংসের একটা চেষ্টা হয়। কিন্তু উছমানীয়রা আগেই তা টের পেয়ে গেলে, খৃষ্টান বাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং পিছু হটে। এভাবে নানা ঘটনা পরিক্রমায় মুসলমানদের হাতে পতন হয় কনস্টান্টিনোপলের। শুরু হয় ইস্তাম্বুলের নতুন ইতিহাস।

 


সূত্র: যুগান্তর ও অন্যান্য।

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews