1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  5. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  6. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  7. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  8. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
বিবর্তনবাদের লজিক্যাল ফ্যালাসি
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

বিবর্তনবাদের লজিক্যাল ফ্যালাসি

রাকিবুল হাসান
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৪৬ বার পড়া হয়েছে
Evolution বিবর্তনবাদ-dinratri.net

আমি বিবর্তনবাদের সুনির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ নিয়ে কথা বলব না যে অমুক উদাহরণে বিজ্ঞানীরা এই খুঁজে পেয়েছেন। বরং সামগ্রিকভাবে পুরো বিবর্তনবাদ তত্ত্ব যে লজিক্যাল কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে সেটা নিয়ে বলব।
..
শুরুতেই সায়েন্টিফিক অবজার্ভেশনের দুটি ক্যাটাগরি জেনে নিতে হবে।

এক: থিওরি-ফ্রি অবজারভেশন-
এই ক্যাটাগরিতে অবজার্ভার বা প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে থাকে, নিজের ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য ক্ষমতা ব্যবহার করে সে সরাসরি যা প্রত্যক্ষ করেছে তা-ই বলে।

যেমন কেউ নিজের স্মার্টফোনের বিবরণ দিচ্ছে, কালার, ডিজাইন, স্ক্রিন সাইজ। এখানে অবজার্ভার কোনো থিওরির সহায়তা ছাড়াই যা দেখেছে তা বলে, এরচে সামনে এগোয় না।
..
দুই: থিওরি-লেইডেন অবজারভেশন-
এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শী কোনো থিওরির আলোকে তার অবজারভেশন ‘ব্যাখ্যা’ করে থাকে, শুধু ‘বর্ণনা’ নয়।

(ব্যাখ্যা ও বর্ণনার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। বর্ণনা একটি নৈর্ব্যক্তিক বিষয়। কিন্তু ব্যাখ্যায় ব্যাখ্যাদাতার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটে)
..
থিওরি-লেইডেন অবজারভেশন আবার দুটি সাব-ক্যাটাগরিতে বিভক্ত।

প্রথমত, থিওরি নিউট্রাল অবজারভেশন
দ্বিতীয়ত, থিওরি সেল্ফ-কনফার্মিং অবজারভেশন
………

থিওরি নিউট্রাল অবজারভেশন-

থিওরি নিউট্রাল অবজারভেশনে ঘটনার ব্যাখ্যা পূর্বে ঘটা একইরকম ঘটনার আলোকে হয়ে থাকে। (দর্শনের ভাষায় একে ইনডাক্টিভ রিযনিং বলা হয়। সারকথা হচ্ছে- পূর্বে ঘটেছে এমন ঘটনার আলোকে আমরা যখন কোনো ভবিষ্যতবাণী করি, সেটাই ইনডাকটিভ রিযনিং। এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় ইনডাকশন। এর সবচেয়ে কমন উদাহরণ হচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। অনুবাদক)

যেমন ধরুন ভোরে আপনি পার্কে গেলেন। গিয়ে দেখেন পার্কের ঘাসগুলো ভেজা। আপনি এর সম্ভাব্য দুটি ব্যাখ্যা দিতে পারেন। হতে পারে বৃষ্টি হয়েছে। আবার হতে পারে পার্কের পানি ছিটানোর যন্ত্রের মাধ্যমে ঘাস ভেজানো হয়েছে। এই দুটিই ঘাস কেন ভেজা এর একমাত্র ব্যাখ্যা নয়, আরও ব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু আপনার ‘পূর্ব অভিজ্ঞতা’ অনুযায়ী এই দুটিই সবচেয়ে ভালো ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা। ইনডাকশন।

কিন্তু পরক্ষণেই আপনি দেখলেন আকাশটা বেশ মেঘলা। ওদিকে পানি ছিটানোর যন্ত্রটাও বন্ধ। এখন কিন্তু আপনি ঘাস বৃষ্টির কারণে ভিজেছে- এই ব্যাখ্যাটাকেই প্রাধান্য দিবেন, যন্ত্রের সাহায্যে ভেজানো হয়েছে এই ব্যাখ্যার তুলনায়।

এখানে কেউ এই ব্যাখ্যাও দিতে পারে যে হয়ত কেউ এসে পুরো পার্কে পানি ছিটিয়ে গেছে। তো বৃষ্টির ফলে ঘাস ভেজা এই ব্যাখ্যাটা কেউ এসে পানি ছিটিয়ে গেছে- এরচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য, কেন? কারণ আপনার অতীত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা।

আপনার অভিজ্ঞতা বলে যে সচরাচর কেউ অনর্থক পার্কে এসে বালতি ভরে পানি ছিটায় না। তো এই দুটি ব্যাখ্যার ওজন কিন্তু সমান না। জ্ঞানতাত্ত্বিক মূল্য (এপিস্টেমোলজিক্যাল ভ্যলু) এক নয়।

এখানে আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করুন। ‘ঘাস ভেজা’ শুধু এতটুকু কথা কোনো ব্যাখ্যা নয়, জাস্ট বর্ণনা। অর্থাৎ থিওরি-ফ্রি অবজারভেশন। কিন্তু আপনি যদি ঘাস ভেজা- শুধু এটুকুতে পরিতৃপ্ত না হোন, বরং ঘাস কেন ভেজা তার কারণ উদঘাটন করতে চান, তো একটা না একটা ‘ব্যাখ্যা’ লাগবে। এই ব্যাখ্যাটাই থিওরি-নিউট্রাল অবজারভেশন।

আরেকটা বিষয় মজার। আপনি যদি নিজে দেখেন বৃষ্টি হতে, তখন কিন্তু ‘বৃষ্টির কারণে ঘাস ভেজা’ এটা আর ব্যাখ্যা থাকবে না, বরং এটা হয়ে যাবে বর্ণনা। থিওরি-ফ্রি আর থিওরি-নিউট্রাল অবজারভেশনের এই আন্তসংযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
..

থিওরি সেল্ফ-কনফার্মিং অবজারভেশন-

যখন কোনো ঘটনা এমন কোনো থিওরির আলোকে ব্যাখ্যা করা হয় যেই থিওরিটাই এখনো চূড়ান্ত নয়, বরং এর নিজেরই বৈধতা দরকার, তখন এই ব্যাখ্যাটাকে বলা হয় থিওরি সেল্ফ-কনফার্মিং অবজারভেশন।

এক্ষেত্রে বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে থিওরির উপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যাটা দাঁড়ায়, আবার ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে থিওরিটা প্রতিষ্ঠিত হয়। এটা একটা লজিক্যাল ফ্যালাসি। ভুল।

থিওরি-নিউট্রাল অবজারভেশন আর থিওরি সেল্ফ-কনফার্মিং অবজারভেশনের পার্থক্য হচ্ছে- প্রথমটায় ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয় পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে। কিন্তু দ্বিতীয়টার ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, বরং খোদ ‘সাবজেক্ট অব ডিসপিউট’ (বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু) এর ভিত্তিতে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
..

লজিক্যাল কাঠামোটা এমন দাঁড়ায়-

: যদি বিবর্তনবাদ সত্য হয়ে থাকে, তবে আমাদের X পর্যবেক্ষণ করা উচিৎ।
: X পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে
: সুতরাং বিবর্তনবাদ সত্য!

X বলতে ফসিল, জেনেটিক সিমিলারিটি বা আরও অনেক কিছু হতে পারে যা বিবর্তনবাদিরা নিজ মতের সপক্ষে প্রমাণ হিশেবে বিবেচনা করে।

আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে কাঠামোটা এমন হবে-

: যদি বিবর্তনবাদ সত্য হয়ে থাকে তবে আমাদের ডিএনএ’র সামঞ্জস্য যাচাই করা উচিৎ।
: ডিএনএ-র সামঞ্জস্য যাচাই করেছি
: সুতরাং বিবর্তনবাদ সত্য!
………..

ডিএনএ’র সামঞ্জস্য অনেকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু বিবর্তনবাদিরা সেখান থেকে শুধু একটা ব্যাখ্যা বেছে নিয়েছে, যে ব্যাখ্যা দ্বারা নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে। এটাকে বলা হয় এ্যারবিট্র‍্যারি এক্সপ্লেইনেশন। (অর্থাৎ কোনো নিয়ম বা পদ্ধতিতে না গিয়ে সম্ভাব্য একাধিক ব্যাখ্যা থেকে র‍্যান্ডমলি কিংবা নিজের পক্ষে যায় এমন কোনো ব্যাখ্যা গ্রহণ করা)

বিবর্তনবাদিদের ব্যাখ্যাটাকে আমরা এ্যারবিট্র‍্যারি বলেছি কারণ এখানে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আগে কেউ বিবর্তন দেখেনি। যদি পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতো, তাহলে বলা যেত যে বিবর্তনবাদের ব্যাখ্যাটা অন্যদের চেয়ে ভালো বা অধিক সম্ভাবনাময়। কিন্তু এরকম কিছু ছাড়াই যখন বলা হয় যে এটিই ঠিক, বাকিগুলো ভুল, তা এ্যারবিট্র‍্যারি এক্সপ্লেইনেশন বৈ কিছু নয়।
………

এই ব্যাখ্যাটা কিভাবে সেল্ফ-কনফার্মিং? লক্ষ্য করুন-

: ঘটনা ‘ক’ কে ব্যাখ্যা করো ‘খ’ থিওরির আলোকে
: থিওরি ‘খ’ এর সত্যতার প্রমাণ ঘটনা ‘ক’ এর ব্যাখ্যা!!

এটা এবার নিচের উদাহরণের সাথে মিলিয়ে দেখুন-

: ডিএনএ’র সামঞ্জস্যকে ব্যাখ্যা করো বিবর্তন দিয়ে
: বিবর্তনের প্রমাণ হলো ডিএনএ-র সামঞ্জস্য!

লক্ষ্য করুন, ডিএনএ-র সামঞ্জস্যকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এমন থিওরি দিয়ে যা নিজেই এখনো স্বীকৃত নয়, বিতর্কিত। বরং বিতর্কের মূল পয়েন্ট।

ডিএনএ-র সামঞ্জস্য কিন্তু ভিন্নভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়। বিবর্তনবাদিরা ধরে নিয়েছে একই পূর্বপুরুষ থেকে উৎসারিত হওয়ার ফলে এই সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। অথচ সামঞ্জস্যের একমাত্র কারণ ‘কমন ডিসেন্ট’ নয়, আরও কারণ থাকতে পারে।

খুব সহজ একটা উদাহরণ দেই। উয়িন্ডোজ বা এন্ড্রয়েডের সাথে মোটামুটি সবাই পরিচিত। উয়িন্ডোজের বা এন্ড্রয়েডের সবগুলো ভার্সনে অনেক অনেক মিল রয়েছে, সামঞ্জস্য রয়েছে। তো এটা কি এক ভার্সন থেকে বিবর্তিত হয়ে আরেক ভার্সন এসেছে এজন্য?

না, বরং এদের সবার স্রষ্টা এক। একই স্রষ্টার সৃষ্টিকর্মে অনেক অনেক সামঞ্জস্য থাকে। একই শিল্পী-লেখকের কাজ দেখলেই বুঝা যায় এটি অমুকের সৃষ্টিকর্ম। অনুরূপ প্রাণীজগতের সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য হতে পারে একই স্রষ্টার সৃষ্টি, সেকারণে।


ইষৎ সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
মূল আর্টিকেল- ক্লিক করুন এখানে 

 

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews