1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  5. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  6. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  7. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  8. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
ফ্রান্স: চিরকালের মানবতার শত্রু
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৪:০১ অপরাহ্ন

ফ্রান্স: চিরকালের মানবতার শত্রু

রাকিবুল হাসান
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৯৭ বার পড়া হয়েছে
ড্রেফোসের দ্বিতীয় বিচারের চিত্র, এনসাক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা
ড্রেফোসের দ্বিতীয় বিচারের চিত্র, এনসাক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা

১৮৯৪ সাল।

ফ্রান্সে অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে ফরাসি এক স্পাই ঘুরঘুর করছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্রান্সে জার্মান চর কে তা খুঁজে বের করা। ২৪ বছর আগে নিজেকে ইউরোপের মোড়ল ভাবা দাম্ভিক ফ্রান্স জার্মানির হাতে রাম ধোলাই খেয়ে বাকা হয়ে আছে।

জার্মান জাতিকে দমিয়ে রাখার জন্য বানরের কলাভাগের মত নানা দেশে ভাগজোগ করে দেওয়া হয়েছিল, যেন তারা কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।

সেখান থেকে তেড়েফুড়ে কোন এক নেতা এল অটোভন বিসমার্ক নামে, সে ফরাসিদেরকে মেরেকুটে তাদের রাজধানিতে বসে জার্মান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চুক্তি করিয়েছে, সেখানে ফ্রান্সকেও ঘাড় ধরে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছে।

ফরাসি সেনাবাহিনি লজ্জায় রাস্তায় বেরোতে পারে না। ফরাসি নেতারা বিশ্বদরবারে গেলে মুখ লুকিয়ে রাখতে হয়। এই যে অপমান, এই যে পরাজয় এর জন্য একটা বলির পাঠা লাগবে না? সেই পাঠার খুঁজেই আছে বিগত ২৪ বছর ধরে।

দূতাবাসের সামরিক এ্যাটাশের ময়লার ঝুড়িতে ফরাসি স্পাই এক টুকরো কাগজ খুঁজে পায়, মোড়ানো-কুচকানো। কাগজের হাতের লেখা নাকি ফরাসি আর্টিলারির ইহুদি ক্যাপটেইন আলফ্রেড ড্রেফোসের সাথে মিলে যায়। আর যায় কোথায়! তাকে জার্মান চর হিশেবে অভিযুক্ত করা হয়। পরাজয়ের দায়ভার তার উপর চাপানো হয়।

জনসম্মুখে তার ব্যাজ ছিঁড়ে ফেলা হয়। সোর্ড অব অনার ভেঙে টুকরো টুকরো করা হয়। তাকে শহরে ঘুরানো হয়। ইহুদিরা নিপাত যাক শ্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে উঠে। তারপর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে নির্জন এক দ্বীপে কারাবন্দী করা হয়। ব্যাপকভাবে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ফ্রান্সে।

 

Imagine the first trial of Defos

ড্রেফোসের প্রথম বিচারের কল্পচিত্র, এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা

 

শুরু থেকেই তার পরিবারের দাবি ছিল ড্রেফোস নির্দোষ। ১৮৯৬ সালে ফরাসি সামরিক গোয়েন্দাবাহিনির প্রধান হিশেবে নিয়োগ পায় জর্জ পিকার্ট। সে তদন্তে করে বের করে ড্রেফোস নির্দোষ। প্রকৃত দোষী আরেক ফরাসি অফিসার। এই ঘটনা সে তার ঊর্ধতনদের বলে।

তারা তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য চাপ দেয়। এতেও কাজ না হলে তাকে উত্তর আফ্রিকায় বদলি করে দেয়। পরে তাকে কারাবন্দি করা হয়। সেখানে সে আত্মহত্যার চেষ্টাও চালায়।

 

ড্রেফোসের দ্বিতীয় বিচারের চিত্র, এনসাক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা

ড্রেফোসের দ্বিতীয় বিচারের চিত্র, এনসাক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা

 

দুইবছর পর ১৯৯৮ সালে সেই অভিযুক্ত অফিসারকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়। নজিরবিহীনভাবে মাত্র দুইদিনের কোর্টমার্শালে তাকে নির্দোষ বলে খালাস দেওয়া হয়। প্রকৃত দোষী ড্রেফোসকেই রাখা হয়।

এরপর বিখ্যাত ফরাসি নাট্যকার এমিল জোলা পত্রিকায় একটি খোলা চিঠি ছাপে। জনমতের চাপে সরকার পুনরায় ড্রেফোসের বিচারকাজ শুরু করে। এবারও তাকেই দোষী বানানো হয় এবং দশ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর সুশীল-উদার-সেক্যুলার ফ্রান্সের মুখোশ বিশ্বদরবারে পুরোপুরিই নেংটো হয়ে যায়। চাপের মুখে সরকার ড্রেফোসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

মামলাটি কেস অব দ্য সেঞ্চুরি নামে পরিচিত। এর ফলে ফরাসি ভণ্ডামির জারিজুরি প্রকটভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে।
………….

আরও পিছনে চলে যাই, প্রায় ৯ শ বছর।

১০৯৫ সাল। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডের ডাক দিয়ছে পোপ দ্বিতীয় আরবান। সাধু-সন্ন্যাসীরা ঘুরে ঘুরে গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে, বিলাপ করে শুনাচ্ছে বাইতুল মাকদিসে যে খ্রিস্টানদের উপর কী বর্বর নির্যাতন হচ্ছে। গোটা ইউরোপে খুনের উন্মাদনা দাউদাউ করে জ্বালিয়ে দেয়।

পরবর্তি দুইশ বছর লাখে লাখে ইউরোপিয়ান ফিলিস্তিন গিয়েছে বর্বর মুসলিমদের শায়েস্তা করার জন্য। তাদের এই নারকীয় তাণ্ডব শুধু তখনই স্তিমিত হয়েছে যখন রক্ত দেওয়ার মত যুবকের অভাব দেখা দিয়েছে ইউরোপে। ঘরে ঘরে এতিম, বিধবা। উপার্জনের কেউ নাই, তখনই শুধু তাদের ‘পবিত্র যুদ্ধ’র ঘোর কেটেছে।

অহ, বলা হয়নি। পোপ আরবান ছিল ফরাসি। আর পুরো ক্রুসেড জুড়ে মানুষ মারার উন্মাদনা জাগিয়ে রেখেছে ফরাসিরাই। ফ্রান্স ছিল নেতৃত্বে।
…………

স্যামুয়েল পিটি নামে এক ইতিহাসের শিক্ষক মুহাম্মাদ সা. এর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ক্লাসরুমে দেখিয়ে ছাত্রদেরকে বাকস্বাধীনতার মাহাত্ম্য বুঝাচ্ছিল, তাকে মাঝ রাস্তায় দিন দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ফরাসি সরকার তাকে ‘শহীদ’ উপাধি দেয়। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছে তারা কার্টুন প্রদর্শন বন্ধ করবে না কারণ এটা বাকস্বাধীনতার অংশ। যদিও সমকামিতার বিরুদ্ধে কথা বলার ‘অপরাধে’ জেল খাটার ঘটনা খুবই স্বাভাবিক ইউরোপে। বাকস্বাধীনতা এখানে নিরব।

সব সীমা ছাড়িয়ে গত বুধবার মন্টপিলার ও তুলুসের টাউন হলে সরকারি উদ্যোগে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন টানিয়ে রাখা হয়।

 

grand-mosque-de-pantin-dinratri.net

প্যারিসের গ্র্যান্ড পানতিনের এ মসজিদটি সন্ত্রাস ঠেকানোর অজুহাতে ছ’ মাসের জন্যে বন্ধ করা হয়েছে।

 

ফরাসিরা অসভ্য-বর্বর ছিল এবং আছে। বিগত কয়েক হাজার বছরেও এদের গায়ের চামড়া কিংবা বিকৃত মানসিকতা- কোনোটাই পরিবর্তন হয়নি। হয়েছে শুধু আমাদের, মুসলিমদের।

কলোনিয়ালিজমের কুপ্রভাবে খুনি-লুটেরা ইউরোপিয়ানদেরকে ভদ্র ভাবতে শিখেছি। প্রভু ভেবে পা চাটতে শিখেছি। তারাও শিখেছে বোকা মুসলিমদেরকে কী বলে ঘুম পাড়াতে হয়।

মধ্যযুগের ক্রুসেড ফ্রান্স থেকে ঘোষিত হয়েছিল, পোপ আরবানের মাধ্যমে। আধুনিকযুগের ক্রুসেড ঘোষিত হয়েছে ফ্রান্সেই, আরবানের জায়গায় এসেছে ম্যাক্রো। পার্থক্য এটুকুই।

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews