1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. camelliaubq5zu@mail.com : arnider :
  5. patsymillington@hidebox.org : bennystenhouse :
  6. steeseejep2235@inbox.ru : bobbye34t0314102 :
  7. nikitakars7j@myrambler.ru : carljac :
  8. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  9. sk.sehd.gn.l7@gmail.com : charitygrattan :
  10. clarencecremor@mvn.warboardplace.com : clarencef96 :
  11. chebotarenko.2022@mail.ru : dorastrode5 :
  12. lawanasummerall120@yahoo.com : eltonvonstieglit :
  13. tonsomotoconni401@yahoo.com : fmajeff171888 :
  14. judileta@partcafe.com : gildastirling98 :
  15. padsveva3337@bk.ru : janidqm31288238 :
  16. michaovdm8@mail.com : latmar :
  17. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  18. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  19. crawkewanombtradven749@yahoo.com : marvinv379457 :
  20. deirexerivesubt571@yahoo.com : meridithlefebvre :
  21. lecatalitocktec961@yahoo.com : normanposey6 :
  22. gracielafitzgibbon5270@hidebox.org : princelithgow52 :
  23. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  24. berrygaffney@hidebox.org : rose25e8563833 :
  25. incolanona1190@mail.ru : sibyl83l32 :
  26. pennylcdgh@mail.com : siribret :
  27. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
  28. karleengjkla@mail.com : weibad :
  29. dhhbew0zt@esiix.com : wpuser_nugeaqouzxup :
১৮৫৭'র সংগ্রাম: মধ্যবিত্ত, জমিদার ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণির প্রতিক্রিয়া
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০২:২৫ অপরাহ্ন

১৮৫৭’র সংগ্রাম: মধ্যবিত্ত, জমিদার ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণির প্রতিক্রিয়া

কামরুজ্জামান
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৩৯ বার পড়া হয়েছে
The-Sepoy-Revolution-of-1857-dinratri.net

ভারতীয় জনসাধারণ ১৮৫৭’র মহাবিদ্রোহ তথা ইংরেজ বিরোধী প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণপণে লড়াই করলেও এদেশীয় বাঙালি মধ্যবিত্ত-জমিদারশ্রণী ও বুদ্ধিজীবিরা ছিল তার পুরো বিপরীত কোণে। শিক্ষিত সম্প্রদায় মনে করত যে, ভারতীয় হলেও তারা অপর ভারতবাসী থেকে পৃথক এবং তারা ইংরেজ পক্ষভুক্ত। তাদের জল্পনা কল্পনায় ভর করে ছিল ইংরেজ ভূত। তাদেরকে রক্ষা করার তাগিদে জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে শপথ পত্র পর্যন্ত প্রেরণ করেছিলেন এসকল ব্যক্তিবর্গ।

বিপ্লবীদের প্রবল প্রতাপে ব্রিটিশ বেনিয়াদের যখন হাঁটু কাঁপন অবস্থা। তখন সে ভাঙা হাঁটুকে সোজা করে দাড় করিয়ে রাখেন এই বাবুরা। ভাঙা হাঁটু ভাঙতে গিয়েও হলো না এই বাবু শ্রেণির কারণে। উল্টো ভাঙা জায়গায় জোড়া লেগে তার উত্তাপে হরণ করেছিল হাজার হাজার বিপ্লবী মুসলমানের জীবন। এই জন্য ঐতিহাসিক নর্টন তার ‘টপিক্স ফর ইন্ডিয়ান স্টেটম্যান’ গ্রন্থে শিক্ষিত ভারতীয়দের কাছে অকুণ্ঠ চিত্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন (পৃ.৫৬)

তৎকালীন কলকাতার শিক্ষিত বাবু ও জমিদার শ্রেণি যে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে ছিল, তার প্রমাণ মেলে ১৮৫৮ সালে বৃটিশ পার্লামেন্টের লর্ড সভায় জোর গলায় ঘোষণা দেওয়া গ্রেনভিলের কণ্ঠে। তিনি বলেছিলেন, ‘শিক্ষিত ভারতীয়গণ সিপাহী বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে নাই, বরং তারা উৎসাহের সহিত এই বিদ্রোহের বিরোধীই করিয়াছে এবং সেই সংকটকালে প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত তাহারা বৃটিশ কর্তৃপক্ষের নিকট বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের যথেষ্ট প্রমাণ দিয়াছে।[০১]

চারদিকে বিদ্রোহের দামামা বেজে উঠলে, সারা ভারতবর্ষে ইংরেজদের মাঝে এক প্রকার ভীতির সঞ্চার প্রকাশিত হয়। তন্মধ্যে, কলকাতার ইংরেজ অধিবাসীদের অবস্থা ছিল আরো ভয়াবহ। জানা যায়,রাতের বেলা তারা(ইংরেজগণ) ভয়ে জাহাজে আশ্রয় নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করত। কারণ, চারদিকে ভেসে বেড়াচ্ছিল একেকরকম গুজব। এই বুঝি তাদের উপর মুসলিম সিপাহিরা আক্রমণ করে বসলো ! !

মহারাণী ভিক্টোরিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত নাচের উৎসবে অনেক আর্মেনিয়ান ও অ্যাংলো ইণ্ডিয়ান নিছক ভয় পেয়ে যোগ দেয় নি। একজন ইউরোপীয়ান মহিলা বল নাচের উৎসবে আক্রান্ত হতে পারে এই গুজব শুনে এত ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে, রাতভর বাড়িতে পাহারা দেওয়ার জন্য দুইজন গোরা সৈন্যকে ভাড়ায় ঠিক করেছিলেন।.. ওদিকে বাড়ির কাজের লোকের ব্যবহারেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল। আগের মত যেন আর আনুগত্য নেই। মনে হচ্ছে, বৃটিশরা যেন এখনই পাততাড়ি গুটাচ্ছে। [০২] তবে ভয়টা সাধারণ ইংরেজদের মনে এত বেশি ঢুকে গেছিল যে, নিজেরা সদাসর্বদা রিভলবার নিয়ে ঘুরে বেড়াত আর পরিবার স্বজনদের গঙ্গা বক্ষে জাহাজে রাখার ব্যবস্থা করেছিল।[০৩]

ইংরেজদের এই অবস্থা দেখে বাঙালি নেতারা গুরুতর কর্তব্যবোধে তাদের বিশ্বস্ততার প্রমাণ স্বরুপ প্রকাশ্যে সভা সমিতি করে এবং একের পর এক প্রস্তাব পাঠিয়ে তাদেরকে শঙ্কাহীন করার চেষ্টা করেন। এবং তারা সফলও হন। ইংরেজরাও রক্ষা পান। শুধু মুসলমানের জানের উপর দিয়ে চলছিল কোরবানি । কলকাতার বাবু শ্রেণি ইংরেজ প্রেমের নেশায় এতটাই হাবুডুবু খাচ্ছিলো যে, বাংলাকোট ও নারিকেল বাড়িয়ায় ভারতের মুসলমানরা যখন জীবন দিচ্ছে, তখন তারা বলে উঠেছিল, “আমাদের যদি বলা হয় বৃটিশ কিংবা কার শাসন তোমরা চাও। উত্তরে আমরা একবাক্যেই বলিব বৃটিশ শাসন। এমনকি হিন্দু শাসন ও নয়।”[০৪]

১৮৫৭ সালের স্বাধীনতার সংগ্রামেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। কারণ, ইংরেজদের কামানের গোলায় মানুষের জীবন যখন বিধ্বস্ত হচ্ছে তখন হিন্দু পত্রিকা ‘সংবাদ ভাস্কর’ লিখেছিল, “আমরা পরমেশ্বরের সমীপে সর্বদা প্রার্থনা করি, পুরুষানুক্রমে যেন ইংরেজাধিকারে থাকতে পারি, ভারত ভূমি কত পূণ্য করিয়াছিলেন এই কারণ ইংরেজ স্বামী পাইয়াছেন, মৃত্যুকাল পর্যন্ত যেন ইংরেজ ভূপালদিগের মুখের পান হইয়া পরম সুখে কাল যাপন করে।[০৫]

২৫ মে বর্ধমানের জমিদার মহারাজা মাহতাব চাঁদ ২৫০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির সাক্ষর সহ একটি স্মারক লিপি মারপত ইংরেজ শাসকদের প্রতি তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন। মুসলমানদের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে গদ গদ ভাষায় তারা ইংরেজ শাসকদের প্রতি তাদের আনুগত্য নিবেদন করেন।[০৬]

সাহিত্য সম্রাট ঋষি* বঙ্কিম চন্দ্র ‘সংবাদ ভাস্কর’ – এ লিখলেন,’হে পাঠক, সকলে উদ্বাহু হইয়া ইশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়া জয়ধ্বনি করিতে করিতে নৃত্য কর।আমাদের প্রধান সেনাপতি মহাশয় মক্ষম হইয়া দিল্লি প্রবেশ করিয়াছেন।… পাঠকগণ জয় জয় বলিয়া নৃত্য কর, হিন্দু প্রজা সকল, দেবালয়ে পূজা দাও, আমাদের রাজ্যেশ্বর শত্রু জয়ী হইলেন।

বঙ্কিমের এই উষ্ণ জয়ানন্দের প্রেক্ষিত, কাজী আবদুল অদুদকে পর্যন্ত দুঃখ করে বলতে হয়েছে, ‘বিদ্যাসাগর ও দেবেন্দ্রনাথের মত স্বাধীন চেতা বাঙালিরাও সেদিন সিপাহি বিদ্রোহ সম্পর্কে কোন কৌতুহল দেখান নাই।'[০৭] শুধু কি তাই ? মাইকেল তখন রত্নাবলীর ইংরেজি অনুবাদ করছেন, কলিকাতার গোটা বাবু সমাজে পাইকপাড়ার রাজার বেলগাছিয়া বাগান বাড়িতে শখের নাট্যশালায় তখন অভিনয় উপভোগ করছেন। আর স্বয়ং বিদ্যাসাগর ‘হিন্দু কলেজের উন্নতির দেন দরবার করার জন্য গভর্ণর হ্যালিডে সাহেবের দরবারে প্যান্টালুন, চোগা চাপকান ও পাগড়ি পরে হাজিরা দিচ্ছেন।'(ইন্দ্রমিত্র ‘করুণাসাগর বিদ্যাসাগর’ দ্রষ্টব্য)

সৈয়দ আবুল মকসুদ লিখেছেন, বাহাদুর শাহ জাফরের পরাজয়ের পর বাংলার হিন্দু জমিদারেরা যে দরখাস্তটি কোম্পানি শাসকদের বরাবর দিয়েছিলেন মানব জাতির ইতিহাসে এমন নিকৃষ্ট পত্র আর লেখা হয়েছে কিনা সন্দেহ। জমিদার নেতারা লিখলেন, ‘আমরা জীবন দিয়ে হলেও আপনাদের রক্ষা করবো।’ কিন্তু খুবই স্বাভাবিক যে, মৃত্যুর ভয় তাদেরই ছিল বেশি। সেসময় কলকাতার বড় জমিদারেরা সন্ধ্যার আগেই খাওয়া- দাওয়া শেষে বড় নৌকা ভাড়া করে গঙ্গায় গিয়ে রাত কাটাতেন এবং ঈশ্বর ও বৃটিশের কাছে প্রাণ ভিক্ষা করতেন। মহাবিদ্রোহের পর যখন বৃটিশ রাজ ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের তখন সে কি আনন্দ! শিবনাথ শাস্ত্রীর বিবরণ, ‘কলকাতার শহর আলোকমালাতে সজ্জিত হইল, চারদিকে আনন্দ ধ্বনি উঠিল।[০৮] কবি ঈশ্বর গুপ্ত উল্লাস প্রকাশ করে তখন লিখেন তার ‘দিল্লির যুদ্ধ’ নামক কবিতা :

ভারতের প্রিয় পুত্র হিন্দু সমুদয়।
মুক্ত মুখে বল সবে ব্রিটিশের জয়।।
পুড়ুক বিপক্ষদল মনের অনলে।
উতড়ুক ব্রিটিশ ধ্বজা সমুদয় স্থলে।।

দুঃখের বিষয় হলো, বঙ্কিম, বিদ্যাসাগর, ঈশ্বর গুপ্ত কিংবা দ্বারকানাথই শুধু নয় তাদের সাথে আরো ছিল রাজা রামমোহন, প্যারীচাঁদ মিত্র, রসিক কৃষ্ণ ও শিবচন্দ্র দেবের মত প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ। এদের অধিকাংশই ছিল তৎকালীন বাংলায় কোম্পানির পক্ষে নিযুক্ত ডেপুটি কালেক্টর। তাদের ভূমিকা উল্লেখ করতে গিয়ে সুপ্রকাশ রায় ব্যাখ্যা করেন এভাবে : ‘ইহারা প্রথম হইতেই ইংরেজি শিক্ষা ও সভ্যতার মোহে আত্মহারা হইয়া ইংরেজদের ভারত জয়কে ‘ভগবানের মঙ্গল বিধান’ বলিয়া বরণ করিয়া লইয়াছিল। সুতরাং মহাবিদ্রোহে ইংরেজদের পরাজয় তাহারা কল্পনাও করিতে পারিত না। সমসাময়িককালে শহুরে মধ্যশ্রেণী বিদ্রোহের সময় ইংরেজ সরকারকে সাহায্য না করিলেও অনেকেই মহাবিদ্রোহের নিন্দায় মুখর হইয়া উঠিয়াছিল। এমনকি স্বাধীনতার অগ্রদূত বলিয়া কথিত কবি ঈশ্বর গুপ্ত যিনি ‘বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া স্বদেশের কুকুর পূজা করিব’ বলিয়া আস্ফালন করিতেন, তিনিও ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবার জন্য নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণী ও অন্যান্যের প্রতি কুৎসিত কটাক্ষ করিয়া গাত্রদাহ নিবারণ করিয়াছিলেন এবং ইংরেজদের ভক্তির পরাকাষ্ঠা দেখাইয়াছিলেন।[০৯] তিনি মুসলমান বিপ্লবীদের কটাক্ষ করিয়া লিখেছেন :

′যবনের যত বংশ এবারে হবে ধ্বংস
সাজিয়াছে কোম্পানির সেনা
গরু জরু লবে কেড়ে, চাপ দেড়ে যত নেড়ে
এই বেলা সামাল সামাল।’
ইশ্বর গুপ্তের কলম এখানেই থেমে থাকেনি বরং
ইংরেজদের ভক্তির পরাকাষ্ঠা স্বরুপ তিনি আরো বলেন,
‘চিরকাল হয় যেন ব্রিটিশের জয়।
বৃটিশের রাজলক্ষ্মী স্থির যেন রয়।।
এমন সুখের রাজ্য আর নাহি হয়।
শাস্ত্রমতে এই রাজ্য রামরাজ্য কয়৷।’

 

তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত দৈনিক সংবাদপত্র ছিল ‘সংবাদ প্রভাকর'(প্রথম প্রকাশ ১৮৩১)। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বর গুপ্ত। সিপাহি বিদ্রোহ কালীন এই পত্রিকা সম্পূর্ণরুপে ইংরেজ সরকারের পক্ষে সংবাদ সম্পাদকিয় ছাপাতো। মুসলিম বিপ্লবীদের প্রতি বিষেদাঘার এই পত্রিকা থেকে প্রচার করা হতো। এই পত্রিকায় লেখা বিজ্ঞজনদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাজা রামমোহন রায়, দ্বারকানাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র, নবীন চন্দ্র সেন এবং ঈশ্বর গুপ্ত নিজে।

তাই তো বঙ্কিম ও তার সমগোত্রীয় বিরুদ্ধবাদীদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আবুল মকসুদ বলেন, ‘তাদের ভয় ছিল তাতে আবার মুসলমান আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে ! বঙ্কিমের মত গভীর চিন্তাশীল মানুষ কি করে এই আশঙ্কাকে প্রশ্রয় দিলেন ভাবলে তার বড়ত্বে সন্দেহ জাগে। প্রায় সাতশো বছর মুসলমানরা ক্ষমতায় থাকা সত্বেও তারা ইসলাম প্রচার করে নি। সুফি দরবেশদের প্রভাবে বিভিন্ন ধর্ম থেকে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তারা তা হয়েছিলেন সাম্য ও মানবতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, ইসলামের ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে নয়। তা সত্বেও জনসংখ্যার তুলনায় খুব কম মানুষই ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন।[১০] কিন্তু ইংরেজরা তো তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম উদ্দেশ্য হাসিলে এই ভূমিতে পা দিয়েছিল। এক দিকে সমৃদ্ধ বাংলার ঐশ্বর্য হস্তগত করা অন্যদিকে মিশনারীদের প্রভাবে খ্রিষ্টান ধর্মের শক্ত বীজ বপণ করাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।

সে কঠিন দিনগুলোতে স্বাধীনতা বিপ্লবীদের পাশে না দাড়িয়ে বাংলার বুদ্ধিজীবীসহ জমিদার মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিরা এই বিদ্রোহের পরাজয় ও ব্রিটিশের বিজয়ের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। সমকালীন পরিবেশ বর্ণনা করতে গিয়ে বিনয় ঘোষ লিখেন, “বাংলার ইংরেজি শিক্ষিত শ্রেণী ১৮৫৭ মহাবিদ্রোহের সময় ‘দাসসুলভ’ আচরণ করেন। মহাবিদ্রোহের সময় কলকাতার সংবাদপত্র ‘সংবাদ প্রভাকর’,’সংবাদ ভাস্কর’, ‘সোম প্রকাশ’, ইত্যাদি প্রগতিবিরোধী তথা বিদ্রোহের বিরুদ্ধে রচনা প্রকাশ করে। এই সংবাদপত্র গুলো উচ্চস্বরে জ্ঞাপন করে যে, বিদ্রোহটা….. মূলত ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উদ্ধারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। তৎকালীন বুদ্ধিজীবীরা কেন সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের মুসলমান রাজ্য পুনরুদ্ধারের একটি ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেন নি, সেটাও চিন্তার বিষয়।…. ‘বিদ্রোহের জাতীয় রুপের বদলে ‘সাম্প্রদায়িক রুপই শিক্ষিত বাঙালী হিন্দুদের কাছে প্রধান হয়ে উঠে’।[১১] তৎকালীন হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক হরিশ মুখার্জিও এই ব্রিটিশ প্রীতির বাইরে গিয়ে কোন চিন্তা করেন নি। তিনি বিদ্রোহ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেন যে, সিপাহী বিদ্রোহ কেবলমাত্র কুসংস্কারাচ্ছন্ন সিপাহিদের কর্ম মাত্র, দেশের প্রজাবর্গের সহিত তাহার কোন সম্পর্ক নেই। প্রজাকুল ইংরেজ গভর্নরের প্রতি অনুরক্ত ও কৃতজ্ঞ এবং তাদের রাজভক্তি অবিচলিত রহিয়াছে।[২৮]

হিন্দু বাবুদের প্রভু ভক্তির কথা তুলে ধরতে ভুলেন নি ‘বিনয় ঘোষের’ মত বামপন্থী মানুষরাও। বিনয় ঘোষ অন্য এক জায়গায় লিখেন যে, প্রভুভক্ত জীব সব দেশেই সমাদর লাভ করে থাকে। পাবনার বিজয় গোবিন্দ চৌধুরী কর্তৃক কোম্পানির কাছে পাঠানো প্রতিবেদনটিতে ও তৎকালীন বাংলার ভূস্বামী এবং ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের রাজানুগত্যের শপথই শুনতে পাই, ‘আবেদনকারীরা এটাই উপলব্ধি করে যে, এই সংকট মূহুর্তে সরকার বাহাদুরকে সাহায্য করা প্রত্যেক প্রজারই কর্তব্য।'[২৯] আর এটা বৃটিশ শাসকরা নিশ্চিতভাবেই জানতো বাংলাদেশের ইংরেজ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা এই সংকটে তাদের পক্ষেই থাকবে।

 


তথ্যসূত্রঃ 

১| প্রাগুক্ত, পৃ- ৩৫২।

২| উদ্ধৃত, ফাহমিদুর রহমান(সম্পাদিত),পৃ-২৪৮

৩| শ্যামাপ্রসাদ বসু, ১৮৫৭’র মহাবিদ্রোহে বাঙালিদের ভূমিকা(প্রবন্ধ), শব্দের মিছিল, শারদ ২০০৬

৪| Daily Reference of the Hon’ble, prosonno kumar Tagore, July-1831. এক শ’ বছরের রাজনীতি, আ.আসাদ, বাংলাদেশ কো-অপারেটিব বুক সো. ২০১৪, পৃ-১৬,

৫| সংবাদ ভাস্কর, ২০ শে জুন, ১৮৫৭।

৬| Bengalees’ Address to the Governor General of India, December, 1857.

৭| উদ্ধৃত, বাংলার জাগরণ, পৃ-৭৪

৮| উদ্ধৃত, ফাহমিদুর রহমান(সম্পাদিত),পৃ- ৫৯

৯| প্রাগুক্ত, পৃ- ২৩৩

১০| প্রাগুক্ত, পৃ- ৫৭

১১| বিনয় ঘোষ, বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা, পৃ.২৯৩ ; ফাহমিদুর রহমান(সম্পাদিত), পৃ-২৪৯।

১২| আবদুল মওদূদ,সিপাহী বিপ্লবের পটভূমিকা, পৃষ্ঠা-৫৮

১৩| সাময়িক পত্রে বাংলার সমাজচিত্র, তৃতীয় খণ্ড, পৃ. ৩৯০।

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews