1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. camelliaubq5zu@mail.com : arnider :
  5. patsymillington@hidebox.org : bennystenhouse :
  6. steeseejep2235@inbox.ru : bobbye34t0314102 :
  7. nikitakars7j@myrambler.ru : carljac :
  8. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  9. sk.sehd.gn.l7@gmail.com : charitygrattan :
  10. clarencecremor@mvn.warboardplace.com : clarencef96 :
  11. chebotarenko.2022@mail.ru : dorastrode5 :
  12. lawanasummerall120@yahoo.com : eltonvonstieglit :
  13. tonsomotoconni401@yahoo.com : fmajeff171888 :
  14. gennieleija62@awer.blastzane.com : gennieleija6 :
  15. judileta@partcafe.com : gildastirling98 :
  16. katharinafaithfull9919@hidebox.org : isabellhollins :
  17. padsveva3337@bk.ru : janidqm31288238 :
  18. michaovdm8@mail.com : latmar :
  19. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  20. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  21. crawkewanombtradven749@yahoo.com : marvinv379457 :
  22. deirexerivesubt571@yahoo.com : meridithlefebvre :
  23. lecatalitocktec961@yahoo.com : normanposey6 :
  24. guscervantes@hidebox.org : ophelia62h :
  25. margarite@i.shavers.skin : pilargouin7 :
  26. gracielafitzgibbon5270@hidebox.org : princelithgow52 :
  27. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  28. berrygaffney@hidebox.org : rose25e8563833 :
  29. incolanona1190@mail.ru : sibyl83l32 :
  30. pennylcdgh@mail.com : siribret :
  31. ulkahsamewheel@beach-drontistmeda.sa.com : ulkahsamewheel :
  32. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
  33. karleengjkla@mail.com : weibad :
  34. dhhbew0zt@esiix.com : wpuser_nugeaqouzxup :
আয়া সোফিয়া: সিম্বোলিজম ইন পাওয়ার পলিটিক্স
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন

আয়া সোফিয়া: সিম্বোলিজম ইন পাওয়ার পলিটিক্স

রাকিবুল হাসান
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫৯৭ বার পড়া হয়েছে
hagia-sophia-mosque-turkey-istanbul

এক.

ইউরোপিয়ান কনটেক্সটে কেউ যদি অতি চতুর রাজনৈতিক হয় তবে তাকে তুলনা করা হয় অটোভন বিসমার্কের সাথে। আধুনিক জার্মানির প্রতিষ্ঠাতা, একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ।

ছিন্নভিন্ন জার্মান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, গোটা ইউরোপের বিরোধিতা মোকাবিলা করে, তিন তিনটা যুদ্ধ লড়ে অবশেষে ১৮৭১ সালে তিনি জার্মান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

তার রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় করে নেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সের কাছ থেকে, যুদ্ধে গো হারা হারিয়ে ফ্রান্সের কলিজায় বসে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। রাজধানী প্যারিসের প্যালেস অব ভার্সাই’র হল অব মিররে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ঠিক ৪৮ বছর পর সেই ভার্সাই প্যালেসে, হল অব মিররে বসে আরেকটি চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এবার জার্মানিকে বাধ্য করা হয়। এর মাধ্যমে বিসমার্কের পূর্বের চুক্তিবলে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এটি ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, ১৯১৯ সালের ঘটনা। এটিকেই আমরা ভার্সাই ট্রিটি হিশেবে জানি। যদিও আগেরটিও ভার্সাই ট্রিটিই ছিল।

এই চুক্তির ফলেই সংগঠিত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যেই প্যারিস পিস কনফারেন্সের ফলে এই ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেই কনফারেন্স শুরু হয়েছিল ১৮ ই জানুয়ারি, ১৯১৯ সাল। ১৮৭১ সালের এই দিনেই তৎকালীন জার্মান সম্রাট ক্ষমতায় বসেছিল। অর্থাৎ যেদিন সূচনা, এই একই দিনে সমাপ্তি! যদিও প্রায় ৫০ বছর পর।

গোটা পৃথিবী এসব দিনক্ষণ ভুলে গেলেও ফরাসিরা ভোলেনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্সু ঠিক ঠিকই মনে রেখেছেন। একটু বিস্তারিত বললাম।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিম্বল বা প্রতীক কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝাতে। এটি ছোট্ট একটি উদাহরণ, এরকম আরো বহু নজির রয়েছে।

আপনি যদি সিম্বলিজম না বুঝেন তাহলে হাজারো ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজে পাবেন না। চাই তা গার্মেন্টসে নামাজের আদেশই হোক কিংবা আয়া সোফিয়ায় নামাজ। কেন বিরোধিরা এসব ছোট ছোট বিষয় নিয়ে এত চুলকায় তা বুঝতে হলে আপনি এই প্রতীকী জয়-পরাজয়ের হিশেব বুঝতে হবে।

দুই.

আজকের আয়া সোফিয়া হচ্ছে তৃতীয় নির্মাণ। এর পূর্বেও একই নামে, একই জায়গায় আরো দুটি গির্জা নির্মিত হয়েছিল।

ইস্তাম্বুল পৃথিবীর বিরলতম সেসব শহরের একটি যা দুই মহাদেশ জুড়ে আছে। শহরের মাঝ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে চলে গেছে বসফরাস প্রণালী। শহরটি ফলে দুইভাগে বিভক্ত- পূর্ব ও পশ্চিম। পূর্বাংশ এশিয়ায় আর পশ্চিমাংশ ইউরোপের অংশ।

ইসা আ. এর জন্মের প্রায় সাতশো বছর (ইচ্ছা করেই এক্সাক্ট দিন তারিখ পরিহার করছি) পূর্বে সেখানে কিছু গ্রিক প্রথম বসতি স্থাপন করে। গ্রিকরা ছিল মূর্তিপূজক।

তো ৩৬০ খৃষ্টাব্দের দিকে দ্বিতীয় কন্সট্যানটাইন প্রথম আজকের আয়া সোফিয়া নির্মাণ করেন। তার বাবার নামও ছিল কন্সট্যানটাইন, তিনি ছিলেন প্রথম সম্রাট।

কিন্তু কথা হচ্ছে গ্রিকরা তো মূর্তিপূজক, সেখানে চার্চ আসবে কেন?

আসবে কারণ হচ্ছে সম্রাট কন্সটাইন অর্থাৎ বাবা, তার শেষ জীবনে বিভিন্ন কারণে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। এবং আগকার খ্রিষ্টান যোদ্ধাদের বর্মে, ঢালে যে ক্রুশ আঁকা থাকে, এর প্রচলন তিনিই করেছিলেন।

স্থানীয় মূর্তিপূজকদের হতোদ্যম করার জন্য এবং তাদের ধর্মবিশ্বাসের উপর বিজয়ের নিদর্শন হিশেবে তার ছেলে আয়া সোফিয়া নির্মাণ করে। এই অংশটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ একদম প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই চার্চের একটি রাজনৈতিক বার্তা ছিল, পরবর্তি প্রতিটি ধাপে যার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

তিন.

প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছরের মাথায়ই আয়া সোফিয়া ধ্বংস হয়। কেন?

সম্রাট কন্সটাইনের সময়ব থেকেই খ্রিষ্টধর্মে বিভেদ দেখা দেয়। পিতার সাথে পুত্র অর্থাৎ আল্লাহর সাথে ইসা আ এর সম্পর্ক কিরূপ তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। এই বিতর্কের একজন নেতা ছিল আরিয়ুস। তার অনুসারিদেরকে আরিয়ান বলা হত।

তাকে প্রতিরোধ করার জন্য পিতা কন্সট্যানটাইন সেই ৩২৫ সালেই নিসিয়া শহরে একটি কনফারেন্স করেন, ধর্মবেত্তাদের। সেখানে তিনি আরিয়ুসের সমালোচনা করেন, এবং নতুন কিছু ধর্মীয় বিধিবিধান লিপিবদ্ধ করেন। যারা এটি অনুসরণ করত তাদের বলা হত নিসিয়া ক্রিড বা নিসিয়া আকিদা। তখন থেকেই আরিয়ান আর নিসিয়ানদের মাঝে দ্বন্দ্ব চলমান।

কিন্তু ঝামেলা বাধে দ্বিতীয় কন্সট্যান্টাইনের ক্ষমতা গ্রহণের পর। তার বাবা ছিল নিসিয়ান, সে হয়ে যায় আরিয়ান। রাষ্ট্রের সবখানে এর প্রভাব পড়ে।

তার সহায়তায় আরিয়ানরা অর্থোডক্সদের প্রধান পুরোহিত পলকে অপসারণ করে এবং নির্বাসনে পাঠায়। তার স্থানে একজন আরিয়ান পুরোহিত নিয়োগ দেয়। সে আয়া সোফিয়ায় যাওয়ার সময় জনতা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। তাদের মারামারিতে শুধু চার্চ প্রাঙ্গনেই তিন হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

এটি ছিল ইতিহাসের প্রথম খ্রিষ্টান কর্তৃক খ্রিষ্টান নিধনের ঘটনা। তাদের পরস্পরের কামড়াকামড়িতে দুইদলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, লাভবান হয় আগের মূর্তিপূজকরা।

তারা ক্ষমতা দখল করে বসে। এই অস্থিরতা চলতেই ছিল। তার মাঝে ঘি ঢালা হয় ৪০৪ সালে। তখন তৎকালীন রানির (রানির নাম ইয়োডোক্সিয়া) একটি মূর্তি স্থাপন করা হয় আয়া সোফিয়া প্রাঙ্গনে।

শহরের প্রধান পুরোহিত রানিকে শয়তানের সাথে তুলনা করে জ্বালাময়ি এক বক্তৃতা দেন। ফলে তাকে পদচ্যূত ও নির্বাসিত করা হয়। তার ভক্তবৃন্দ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠ। তারা শহরে জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে। সেই আগুনে আয়া সোফিয়াও পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

পুরোহিতের নাম ছিল সেইন্ট জন ক্রিসোসটম। এখানে উল্লেখ্য- ক্যাথলিক চার্চের প্রধানকে যেমন পোপ বলা হয় তেমনই অর্থোডক্স চার্চের প্রধানকে বলা হয় প্যাট্রিয়ার্ক। পরবর্তিতে এই পরিচয়টি কাজে আসবে।

৪০৪ সালের ধ্বংসের পর ৪১৫ সালে আয়া সোফিয়া পুননির্মান করা হয়। এটা ছিল দ্বিতীয় আয়া সোফিয়া। এটির নির্মানের পিছনেও গ্রিক মূর্তিপূজক বিরোধি মনোভাব কাজ করেছিল তীব্রভাবে।

এমনকি সেই তীব্রতা এত প্রকট ছিল যে ৪৩৮ সালে তৎকালীন সম্রাট ঘোষণা করেন যে তার গোটা সাম্রাজ্য এখন ‘মূর্তিপূজকমুক্ত’!! অর্থাৎ তাদের সবাইকে ‘সাফ’ করে ফেলা হয়েছে!!!

চার.

দ্বিতীয় আয়া সোফিয়া প্রায় একশ বছর টিকে ছিল। ৫৩২ সালে সম্রাট জাস্টিনিয়নের আমলে এটি আবার ধ্বংস হয়। কারণ ছিল শহরে ঘোড়ারগাড়ি চালক আর সার্কাসম্যানদের দুটি দল ছিল।

সার্কাসম্যানরা ছিল সে যুগের মেসি-নেইমার। তারা ব্লু এবং গ্রিন এই দুই দলে বিভক্ত ছিল। সম্রাটরা এই বিভাজনে হাওয়া দিত। কিন্তু জাস্টিনিয়নের আমলে সরকারি দুর্নীতি আর উচ্চ ট্যাক্সের ফলে জনগণ দিশেহারা হয়ে যায়।

এই রথচালক আর সার্কাসম্যানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলে। এক সপ্তাহের তাণ্ডবে তারা গোটা শহরকে লণ্ডভণ্ড করে ফেলে। ইতিহাসে একে নিকিয়া রিজারেকশন বলে উল্লেখ করা হয়।

আয়া সোফিয়াও মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সম্রাট বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই বিদ্রোহ দমন করেন, নিহতের সংখ্যা ছিল মাত্র ত্রিশ হাজার!

অগ্নিসংযোগের মাত্র ৩৯ দিন পরই জাস্টিনিয়ন আয়া সোফিয়ার পুননির্মান শুরু করেন, ৫৩২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পাঁচ বছর পর ৫৩৭ সালে নির্মাণ শেষ হয়। এটিই আজকের আয়া সোফিয়া, তৃতীয় আয়া সোফিয়া। জাস্টিনিয়নের নির্মিত ভবনটাই বহু সংস্কারের মধ্য দিয়ে এখনো টিকে আছে।

পাঁচ.

কিন্তু এখানে রাজনীতি কই?

হ্যাঁ, আছে। বরং সবচেয়ে বড়টাই। খ্রিষ্টান বিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত ছিল। একটি ক্যাথলিক, আরেকটি অর্থোডক্স। ক্যাথলিকদের আস্তানা ছিল ভ্যাটিক্যানে, ভ্যাটিক্যান সিটি ছিল তাদের প্রধান চার্চ। এদেরকে ওয়স্টার্ন ক্যাথলিক বলা হয়, কারণ তারা পশ্চিমের।

অর্থোডক্সদের প্রধান কেন্দ্র ছিল কন্সটান্টনোপল বা আজকের ইস্তাম্বুল, তাদের প্রধান কেন্দ্র হিশেবেই তখন নির্মান করা হয় তৃতীয় আয়া সোফিয়া।

যেহেতু ক্যাথলিকদের সাথে প্রতিযোগিতার একটা বিষয় ছিল, তাই জাস্টিনিয়ন আদেশ দেন এই চার্চ যেন ভ্যাটিক্যানেরটার চেয়ে বড় হয়। এর মিনার যেন ওইটার চেয়ে উঁচু হয়। তেমনই হয়েছিল। আয়া সোফিয়া ছিল তৎকালীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ চার্চ।

এর মাধ্যমে অর্থোডক্সরা ক্যাথলিকদের উপর বিজয়ী হয়। জাস্টিনিয়নের ক্ষমতার প্রতিভূ ছিল এই চার্চ।

 


তথ্যসূত্র:
Feature Image Source: en.wikipedia.org
Hagia Sophia: A History by Richard WInston
Historical and structural analysis of Hagia Sophia by Sultan al Samhan
Encyclopedia of Ottoman empire
আল জাযিরা, মিডলইস্ট আই, আনাদোলো

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

দিন রাত্রি’তে বিজ্ঞাপন দিন

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews