1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. steeseejep2235@inbox.ru : bobbye34t0314102 :
  5. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  6. sk.sehd.gn.l7@gmail.com : charitygrattan :
  7. chebotarenko.2022@mail.ru : dorastrode5 :
  8. lawanasummerall120@yahoo.com : eltonvonstieglit :
  9. padsveva3337@bk.ru : janidqm31288238 :
  10. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  11. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  12. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  13. incolanona1190@mail.ru : sibyl83l32 :
  14. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
আমার সেন্ট মার্টিন সফরনামা: শেষ পর্ব
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

আমার সেন্ট মার্টিন সফরনামা: শেষ পর্ব

সাইফুল ইসলাম রুবাইয়াৎ
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৮৫ বার পড়া হয়েছে
saint-martin-island; সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ; image-source: pixabay.com

দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন এইখানে……

বিছানায় আরেকটু আরাম করে বারান্দায় গিয়ে টেকনাফ দেখতে লাগলাম। এটা নাকি ইয়াবার স্বর্গ! সাইমুমকে বললাম: নাস্তা নিয়ে আসুন। অমৃত সাগর বা সবরি কলা হয়তো পাবেন না। তাই, চাঁপা, কবরি – যা পান …। বললো: আর কিছু? বললাম: আমার কাছে বড় বড় টোস্ট আছে। কলা দিয়ে খাবো। আপনারা আর কিছু খেতে চাইলে, আনতে পারেন। সুস্থ থাকলে, নিজেই যেতাম।

 

লম্বা সফরে টোস্ট সঙ্গে রাখি। কয়েকটি খেয়ে পানি খেয়ে নিলে, খিদে মোটামুটি সামাল দেয়া যায়। রাস্তার হাবিজাবির চেয়ে ওগুলো অনেক ভালো। বিস্কুট পছন্দ করি। আব্বার নাবিস্কো বিস্কুটের এজেন্সি ছিলো। শৈশবে কতো যে খেয়েছি – হিসাব-কিতাব নেই! তিনি প্রায়ই বড় বড় টিনের পটে করে বিস্কুট আনতেন। ওগুলো বেশ মজবুত ও টেকসই ছিলো। খালি হলে, আম্মা ওগুলোতে মুড়ি, চাল, ডাল, শুকনো মরিচ ইত্যাদি রাখতেন।

 

সাইমুম এক ডজন চাঁপা কলা আর কী যেনো নিয়ে খুশি মনে ফিরে এলো।

বললো: আপনাদের জন্যে গাজরের হালুয়াও এনেছি।

বললাম: ভালোই করেছেন। কাল রাতে দই খাওয়ালেন আর এখন খাওয়াবেন গাজরের হালুয়া।

বললো: আমার খাওয়ানোর ক্ষমতা নেই। আল্লাহ্ খাওয়ায়।

বললাম: আল্লাহও খাওয়ান; বান্দাও খাওয়াতে পারে।

নবীজী (’আলাইহিস সলাতু ওয়াস সালাম) এ দোয়াও পড়তেন: আল্লাহুম্মা আত্ব’য়িম মান আত্ব’য়ামানী ওয়াসক্বি মান সাক্বানী, অর্থাৎ হে আল্লাহ্, যে আমায় খাওয়ালো, তুমি তাকে খাওয়াও এবং যে আমায় পান করালো, তুমি তাকে পান করাও (মুসলিম)।

কাজেই, বান্দাও খাওয়াতে পারে।

বললো: ভাই, আপনি অনেক বড় যুক্তিবাদী!

বললাম: এসব হাদীছের কথা। কোনো যুক্তি দেইনি। ‘আচ্ছা, ঠিক আছে যান’ – বলে ও থেমে গেলো!

 

গিয়াস ভাই যেনো মুরগীর আধার খান! অবশ্য তাঁর ডায়াবেটিস রয়েছে। তাই, মিষ্টি খাবার তেমন খান না। সাইমুমও তেমন খেলো না। তারা কয়েকটি টোস্ট ও ৩টি কলা খেলো মাত্র। আর আমি ৮/১০টি বড় বড় টোস্ট ও ৭টি কলা একাই সাবাড় করে দিলাম! এ কাফেলায় নিঃসন্দেহে আমিই সবচেয়ে পেটুক! এরপর ওছমান ভাই এলেন। আমরাও তাড়াতাড়ি গোছগাছ করে নিয়ে রুম ছেড়ে দিলাম। তার কল্যাণে রুম-ভাড়া কমই রাখলো!

 

আমাদের অটো রিক্সায় একজন অপরিচিত ভদ্রলোকও যাবেন। আমরা পেছনে, চালকের বাঁয়ে ওছমান ভাই আর ডানে উনি। যেতে যেতে পরিচয় ও কথা হচ্ছিলো। আল্লাহুতা’লা তাকে মিলিয়ে দিয়েছেন! আসল নাম বলবো না! ছদ্মনাম দিলাম: দিশা। সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা। ওখানে তার অনেক আত্মীয়-স্বজনও থাকেন। দু’ পাশের মনোরম দৃশ্য দেখছি। গাছপালায় ঢাকা ছোট্ট একটি জনশূণ্য দ্বীপ! নামটা দিশা ভাই বলেছিলেন; কিন্তু ভুলে গেছি। দমদমিয়া ঘাটে এসে উনি আমাদের ভার নিলেন! তার কল্যাণে সুলভে জাহাজের টিকেট পেলাম। ওছমান ভাই বিদায় নিলেন। আন্তরিক সহায়তার জন্যে তাকে অনেক ধন্যবাদ। কাজী শাহজাহান ভাইকে আবারও স্মরণ করছি। তার সুবাদেই এমন একজন ভালো পথ-প্রদর্শক মিলেছিলো। দু’জনেরই সার্বিক কল্যাণ কামনা করছি।

 

naf-river-bangladesh

নাফ নদী, টেকনাফ।

নাবিকরা দিশা ভাইয়ের এতোই পরিচিত যে, ভিআইপি রুমে জায়গা পেলাম! তিন ঘণ্টার পথ। চড়ার পরপরই এলসিটি কাজল চলা শুরু করলো। আমি ও সাইমুম আশপাশের দৃশ্য ও জাহাজটি ঘুরে দেখতে লাগলাম। আর গিয়াস ভাই দিশা ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলাপ করতে করতে কাপ্তান তক পৌঁছে গেলেন। নাফ নদ দিয়ে সাগর পানে চলেছি। এক পাশে আমার দেশ; আরেক পাশে মিয়ানমার। দু’ কূলে দু’ দেশ দেখে হঠাৎ মান্না দের কণ্ঠের একটি জনপ্রিয় গান মনে পড়ে গেলো: ‘এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি, মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়। তবুও তোমার আমি পাই ওগো সাড়া; দু’টি পাখী দু’টি কূলে গান যেন গায় …।’  প্রিয় গানটি শুনে নিই:

 

দু’ দেশের মাঝ দিয়ে এই প্রথম সফর! ঘণ্টা খানেক পরই মোহনায় এসে পড়লাম। সিন্ধু-স্রোতস্বিনীর সঙ্গম সরাসরি এই প্রথম দেখলাম। মোহনায় মন না ভরলেও সাগর পেয়ে তৃপ্ত হলাম!

 

সুবহানাল্লাহ, অগণিত অনিন্দ্যসুন্দর গাংচিল উড়ে বেড়াচ্ছে; আমাদের অনুসরণ করছে যেনো অপেক্ষায় ছিলো! অনেকেই ওদের চিপস খাওয়াচ্ছে। এ রূপসীরা মূলত সাদা; ডানার শেষে কালো; কোনোটির মাথা কালচে; কোনোটির খয়েরী; লালচে ঠোঁটের আগা কালচে। অনেকটা হাঁসের মতো প্যাঁকপ্যাঁক করছে। নয়ন ও মন যেমনি জুড়িয়ে গেলো – তেমনি জিবেও পানি এলো! ক-টাকে জবাই ও ভুনা করে চিতই পিঠা বা ভাত দিয়ে খেতে পারলে, দারুণ মজা হতো! কবে ফুফুর বাড়ীতে বক-ভুনা খেয়েছি। আজও যেনো জিবে স্বাদ লেগে আছে! টিভিতে চক্রবাক, বক ও সারসের ঝাঁক দেখলেও জিব ভিজে যায়! ওগুলোর ভুনা খেতে ভীষণ ইচ্ছে করে!

 

Gangchil-Sant-Martin-bangladesh

অনিন্দ্যসুন্দর গাংচিল উড়ে বেড়াচ্ছে; আমাদের অনুসরণ করছে যেনো অপেক্ষায় ছিলো! image-source: deshebideshe.com

 

সাইমুমকে দিয়ে এক পেকেট পটেটো ক্রেকার্স আনালাম।

বললো: ঢাকায় পেকেট ১০ টাকা; আর এখানে ২০ টাকা!

বললাম: হবেই তো। টুরিস্টদের জন্যে সব কিছুরই দাম বেশি। একটি করে চিপস ফ্লাইং ডিশের মতো পাখীদের দিকে ছুড়ছি তো ওরাও দক্ষ কেচারের মতো ঠোঁট দিয়ে খপ করে ধরছে! মিস হলেও তা কাড়াকাড়ি করে পানি থেকে তুলে খাচ্ছে। ওদের তখনকার মৃদু বচসা খুবই উপভোগ্য! আমার দেখাদেখি সাইমুমও …! কোনোটি ওর চিপস ধরলেই, ও খুশিতে চিৎকার করছে: ইয়া হু …!

বললাম: আরে ভাই আস্তে! দেখছেন না আশেপাশে অনেক লাড়কি! ভাববে, ওদের টিস করছেন! কিন্তু কে শোনে কার কথা? ও মাঝে মাঝেই এমন ছেলেমানুষি করে! এবার বেশি করে চিপস নিয়ে নিজেই খেতে লাগলো!

বললাম: ঐ মিয়া, জীবনে কখনও চিপস খাননি? আদেখলা কোথাকার! আধারে ভাগ বসাচ্ছেন কেন?

হেসে বললো: খিদে পেয়েছে।

বললাম: খিদে পেয়েছে নাকি ভাবছেন যে, এতো দামী চিপস শুধু পাখীরা খাবে কেন? এবার একটু লজ্জা পেলো।

বললাম: সকালে অল্প নাস্তা করলেন কেন? ব্যাগে টোস্ট আছে। গিয়ে খেয়ে নিন। জাহাজেও কোনো খাবার কিনে খেতে পারেন। ইতোমধ্যে চিপস প্রায় শেষ! অর্ধেকটা ও-ই খেয়েছে! তাই, আরেক পেকেট আনালাম। এবার সবই গাংচিলদের নসীব হলো।

 

গিয়াস ভাই এসে দিশা ভাইয়ের সঙ্গে এতোক্ষণের আলাপচারিতা এবং কেপ্টেনের সঙ্গে পরিচয় ইত্যাদির সারমর্ম বললেন। ডেকে চলে এলাম। একদল ছেলে গান গেয়ে আনন্দ করছে। গিয়াস ভাই কয়েকটি শট নিলেন। এরপর ডানের বারান্দায় চলে এলাম। প্রাইভেসি পেয়ে আলাপ জুড়ে দিলাম আর আল্লাহুতা’লা সমুদ্রকে কতো সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, তা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। সুবহানাল্লাহিল আ’যীম ওয়াবিহামদিহী।

 

পদ্মার কাছেই গ্রামের বাড়ী; ফুফুর বাড়ী পাড়েই ছিলো। বহুবার পদ্মায় গোছল করেছি; ভ্রমণ করেছি; ওর অপরূপ রূপ মুগ্ধ হয়ে দেখেছি! ২৩ বছর আগে কক্সবাজারে সৈকতে পা ভিজিয়ে হেঁটেছি; পানি চেখেছি; হিমছড়ি তক গিয়েছি। তখন সাগরের সঙ্গে পদ্মার ফারাকটা তেমন বুঝিনি; যদিও আয়তনে পদ্মা ওর কাছে কিছুই না! বরং বঙ্গোপসাগর গোটা বাংলাদেশের চেয়েও প্রায় ১৫ গুণ বড়! তবে, এবার তফাৎটা ঠিকই ধরতে পেরেছি!

 

সেন্ট মার্টিনে জাহাজ ভিড়লো। নেমে দিশা ভাইয়ের সঙ্গ নিলাম। দেশের সবচেয়ে দক্ষিণ স্থলভাগ। রাস্তার দু’ ধারে বেশ কিছু শুঁটকির দোকানও আছে। সামুদ্রিক নানা মাছের শুঁটকি। বড়গুলো ঝুলিয়ে রেখেছে। অতো মাছ চিনিও না। তিন চাকার ছাদওয়ালা ছোট ছোট ভেন অপেক্ষমাণ। ভাড়ায় সাইকেলও পাওয়া যায়। দিশা ভাইয়ের কল্যাণে কম রেটে একটি পছন্দসই রিসোর্টে থ্রি বেডের মানানসই কামরা পেয়ে গেলাম! সিঙ্গেলটি গিয়াস ভাইয়ের; আর ডবলটি বাকি দু’জনের। ফ্রেশ হয়ে জিরিয়ে চললাম সাগরে নাইতে। পথে ডাব খেতে ভুলিনি।

 

ঐ পাশের লালচে ছাদের জাহাজ এলসিটি কাজলে জরে সেন্ট মার্টিন গিয়েছি। এ পাশের জাহাজের নাম এলসিটি কুতুবদিয়া, দুটি জাহাজের বয়সই ৭০ বছর। ছবি-লেখক

ঐ পাশের লালচে ছাদের জাহাজ এলসিটি কাজলে জরে সেন্ট মার্টিন গিয়েছি। এ পাশের জাহাজের নাম এলসিটি কুতুবদিয়া, দুটি জাহাজের বয়সই ৭০ বছর। ছবি-লেখক

 

সমুদ্রে প্রথম গোছল! ঐ দু’জনের অভিজ্ঞতা আছে। গিয়াস ভাই ট্রাউজার, সাইমুম ফুল-পেন্ট আর আমি লুঙ্গি পরা। প্রথমজন সাঁতার জানেন; বাকিরা জানি না। সবার খোলা জামা এবং নেয়ে পরার নয়া কাপড় একই জায়গায় রাখলাম। সাইমুম নাচতে নাচতে সাগরে নামলো! গিয়াস ভাই স্বাভাবিক উৎফুল্ল হয়েই নামলেন। আর কয়েকটি শট নিয়ে মোবাইলটি সৈকতের ভাজা মাছ-বিক্রেতা ইলিয়াসের কাছে রেখে নেমে পড়লাম।

 

সুখী ও অসুখী মানুষের অভিব্যক্তির ভিন্নতা এখানেও চোখে পড়লো! পোলাপান বল দিয়ে জলকেলি করছে। গিয়াস ভাই সাঁতার কাটছেন; ডুব দিচ্ছেন। আর সাইমুমের দশা যেনো সবে খাঁচাছাড়া মুক্ত বিহঙ্গের মতো! বাচ্চাদের মতো কখনও খুশিতে চিৎকার করছে; কখনও তিড়িং তিড়িং করে লাফাচ্ছে; পানি ছিটাচ্ছে; কখনও ওদের সঙ্গে বল খেলছে। এ সুখটুকুর আশায়ই ওর এতোদূর আসা! গিয়াস ভাইও বল ছোড়াছুড়িতে অংশ নিলেন। অনেক আনন্দ পেলাম বটে! কখনও সাঁতার কাটার ব্যর্থ চেষ্টা করছি; কখনও ডুব দিচ্ছি; কখনওবা সাইমুমের কারবার দেখে হাসছি। কিন্তু ওদের সঙ্গে তাল মেলাতে গেলেই শরীর আমায় টেনে ধরছে! ভালো করে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সুস্থ নই! বেশ ক-বারই এমনটা হলো। বল খেলার বল পেলাম না। শরীরের বিরুদ্ধে না গিয়ে বরং গোছলের ফাঁকে ফাঁকে সাগরের বিশালত্ব ও চমৎকারিত্ব উপলব্ধি করাটা নিরাপদ বিনোদন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর, উঠে এলাম। কে যেনো সাইমুমের লুঙ্গি ফেড়ে রেখেছে! আমারটাও তো ওখানেই ছিলো! ভাগ্যিস, অক্ষত আছে। বললাম: সঙ্গে না আনায় রাগ করে আপনার বউ হয়তো আপনার অজান্তেই এটা করেছে!

 

দিশা ভাইয়ের বন্ধুর হোটেলে লাঞ্চ করতে এলাম। গিয়াস ভাই ভাত ও ৩টি রূপচান্দা-ফ্রাই অর্ডার দিলেন। মাছগুলো দেখতে লোভনীয় হলেও খেয়ে স্বাদ পেলাম না। অবশ্য সামুদ্রিক মাছ মিঠে পানির মাছের মতো সুস্বাদু হয় না।

সাইমুমকে বললাম: কাঁকড়া খাবেন নাকি?

রসিকতা করছি ভেবে বললো: আগে আপনি একটি খেয়ে দেখান!

গিয়াস ভাইকে বললাম: আমি একটি কাঁকড়া খেলে, আপনার কোনো সমস্যা …?

বললেন: মাছটা শেষ করে নিই। দিলাম অর্ডার!

সাইমুম বললো: কাঁকড়া খাওয়া মাকরূহ।

বললাম: মাকরূহ বটে; হারাম তো নয়। আর যা হারাম নয়, তা খাওয়ার সুযোগ আছে। মাঝে মাঝে কয়েকটা খেলে কিছু হয় না।

গিয়াস ভাইকে বললো: আপনিও খাবেন নাকি?

বললেন: আমি পাগল নই। বুঝলাম, আমায় সম্মতি দিলেও আসলে তিনি অখুশি। মাছ খাওয়া শেষ। এখন আলু ও শুঁটকি ভর্তা চলছে। অনেকক্ষণ পর, কাঁকড়া-ভাজা এলো। প্রথম খাচ্ছি! কোনো অরুচি হয়নি। ঠ্যাং চিংড়ির ঠ্যাঙের চেয়ে মজাদার হলেও গোশত অতোটা নয়; যদিও একটি খেয়ে এ মন্তব্য কতোটা ঠিক হচ্ছে জানি না। খেয়ে মনে হলো যেনো চিংড়ি মাছের মামাতো ভাই! পুরোই খেয়েছি! কিছুই ফেলিনি। দু’ কুতুব অবাক হয়ে দেখলেন। সাইমুম বেশ রসিকতাও করলো। দিশা ভাইয়ের সুবাদে বিল কমই হলো।

 

যোহর পড়ে একটু ঘুমিয়ে আসর পড়ে বেরুলাম হুমায়ুন আহমদের সমুদ্র বিলাস দেখতে। সৈকতে সূর্যাস্ত আংশিক দেখা হলো। কেননা, সাইমুম ওখানে আচারওয়ালার সঙ্গে দর-দাম করতে গিয়ে প্রায় ঝগড়া বাঁধিয়ে দিয়েছে। সামাল দিতে গিয়ে সূর্য ডুবে গেলো! দোষ ওরই। ভাতিজা-ভাতিজীদের জন্যে বেশি করে ডাবলি বুট ভাজা, আম ও তেঁতুলের আচার কিনলাম। গিয়াস ভাই অবশ্য ভালোভাবেই সূর্যাস্ত দেখেছেন। যাহোক, সৈকতে রাত নামার দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ! রাত্রির গাম্ভীর্য নেমে এসে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে একাকার হয়ে উভয়েই যেনো পূর্ণতা পাচ্ছে! মহান আল্লাহপাকের এ অনুপম সৃষ্টির মহিমা বয়ান করা আমার অসাধ্য। আল্লাহু আকবার!

 

সেন্ট মার্টিন সৈকতে রাত নামছে; ছবি-লেখক

সেন্ট মার্টিন সৈকতে রাত নামছে; ছবি-লেখক

 

সমুদ্র বিলাস! যতো গর্জে ততো বর্ষে না। সৈকতে দেখলাম, একটি টেবিলে কতক কাঁচা চিংড়ি ও কাঁকড়া সাজিয়ে রেখেছে; কতক ভাজছে; কতক খাচ্ছে। পিস ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। জিবে আবারও ভিজলো! দুপুরে একটিমাত্র কাঁকড়া খেয়েছি। ৫/৬টি না খেলে কি পোষায়? শুনেছি, কাঁকড়া খেলে হেন হয়, তেন হয়। যাহোক, অসুস্থতার কথা ভেবে সংযত হলাম। তবে, ওটা খেয়ে কোনো শারীরিক সমস্যা অনুভব করিনি।

 

গিয়াস ভাইকে বললাম: বাংলায় সাগরের চেয়ে নদীকে নিয়েই বোধ হয় বেশি গান রচিত হয়েছে? তিনি ‘ওরে নীল দরিয়া, আমায় দেরে দে ছাড়িয়া’ তক গেয়ে গুণ গুণ করতে লাগলেন। শৈশব কেটেছে মধুমিতা সিনেমা হলের পাশে ও খুব কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনিতে। বাসায় টিভি ছিলো ১৯৭৭/১৯৭৮ থেকেই। পুরানো ছবির গান ছাড়াও কোনো ছবি মুক্তি পেলে, ওটার গানগুলোও আশেপাশের হোটেল ও দোকানগুলোতে ঘনঘন বাজাতো। তাই, ১৯৮৫ তক আমার না শোনা ঢাকাইয়া সিনেমার গান কমই আছে! অনেকগুলোই প্রিয় হয়ে গেছে। হঠাৎ শুনলে যেনো শৈশবে ফিরে যাই। আব্দুল জাব্বারের কণ্ঠে ফারূকের ঠোঁটে সারেং বউয়ের ঐ বিখ্যাত গানটি শোনা যাক:

 

সাগরের গান ভাবতেই প্রথমে মনে পড়লো ১৯৮২’র দিকে টিভিতে মিতালী মুখার্জীর গাওয়া একটি অসাধারণ গান: ‘ওগো সাগর, ছোট্ট এ চিঠি নিয়ে ভেসে যাও; ঢেউ যেমন তীর ছুয়ে ছুয়ে যায়; তার মনটাকে তেমনই কাঁপাও …।’ অনুষ্ঠানটি পেয়েছি। এখানে আছে:

এরপর ফেরদৌসী রহমানের গাওয়া একটি বিখ্যাত গান: ‘আমি সাগরেরও নীল, নয়নে মেখেছি ঐ চৈতালী রাতে ফুল কঙ্কন পরেছি দখিনও হাতে ..।’ শুনতে চাইলে, এখানে ক্লিক করুন:

 

 

ঘরে এসে মাগরিব পড়ে জিরিয়ে বেরিয়ে নাস্তা সেরে জাহাজ ঘাটে গেলাম। আড্ডায় তিনজনের খুব সুন্দর সময় কাটলো। তারাভরা মায়াবী রাতে সমুদ্রের আরেক মোহিনী রূপ! পৌষ সত্ত্বেও শীত নেই! গিয়াস ভাই আবারও ওরে নীল দরিয়ায় …! আকাশে তারার মেলা দেখে ‘কোমল গান্ধার’ ছবিতে অনিল চট্টপাধ্যায়ের নেপথ্যে দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া একটি প্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত মনে পড়লো: ‘আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি, আমি পেয়েছি মোর স্থান – বিস্ময়ে তাই জাগে, জাগে আমার গান।’ এখানে আছে:

 

সেন্ট মার্টিন জাহাজ ঘাট, এখানে দু'রাত দীর্ঘক্ষণ ধরে চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছি। এখন সবই মধুর স্মৃতি; ছবি-লেখক

সেন্ট মার্টিন জাহাজ ঘাট, এখানে দু’রাত দীর্ঘক্ষণ ধরে চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছি। এখন সবই মধুর স্মৃতি; ছবি-লেখক

 

নৈশ-আহার শেষে ফিরে এলাম। এশা পড়ে আবারও আড্ডায় মেতে আরামে ঘুমিয়ে পড়ে ফজরে সজাগ হলাম।

 

সকালে চললাম ছেঁড়া দ্বীপে। ৪৫ মিনিটের পথ। ঢেউয়ে ট্রলার দুললে খুবই মজা লাগে। হঠাৎ নৌপুলিশ আমাদের থামালো! যাত্রীদের লাইফ-জেকেট পরানো হয়নি কেন – কৈফিয়ত চাইলো। চালক অপরাধীর মতো চুপ থাকলো। একজন যাত্রী বললেন: উনারা পরতে বলেছিলেন। আমরাই পরিনি। সাইমুম বললো: না, উনারা আমাদের পরতে বলেনি। ভীষণ বিরক্ত হলাম!

 

ছেঁড়া দ্বীপে জাওয়ার পথে নৌপুলিশ আমাদের থামিয়েছে; ছবি-লেখক

ছেঁড়া দ্বীপে জাওয়ার পথে নৌপুলিশ আমাদের থামিয়েছে; ছবি-লেখক

 

যাহোক, কাগজপত্র দেখে এবং কিছু উপদেশ দিয়ে আমাদের ছেড়ে দিলো।

সাইমুমকে বললাম: মিয়া, মানুষের বিপদে কখনও সুযোগ নেবেন না।

বললো: দেখেন, ওরা তো ওটা আমাদের পরতে বলেনি। এটা কি অন্যায় না?

বললাম: যে দেশে মন্ত্রী-আমলাদের দুর্নীতির শেষ নেই – সেখানে এ সামান্য খেটে খাওয়া মানুষদের অন্যায়টাই আপনার চোখে পড়লো? কী যেনো বলতে গিয়েও থেমে গেলো।

 

একজন সাংবাদিক লিখেছেন, যেমনি আইফেল টাওয়ার দেখে প্যারিসকে, অপেরা হাউজ দেখে সিডনিকে চেনা যায়, তেমনি দূর থেকে ঐ ঝাউ গাছটি দেখে অন্যান্য দ্বীপের মাঝে ছেঁড়া দ্বীপকে চেনা যায়, ছবি-লেখক।

একজন সাংবাদিক লিখেছেন, যেমনি আইফেল টাওয়ার দেখে প্যারিসকে, অপেরা হাউজ দেখে সিডনিকে চেনা যায়, তেমনি দূর থেকে ঐ ঝাউ গাছটি দেখে অন্যান্য দ্বীপের মাঝে ছেঁড়া দ্বীপকে চেনা যায়, ছবি-লেখক।

 

ছেঁড়া দ্বীপের একমাত্র ঝাউ গাছ, ছবি - লেখক

ছেঁড়া দ্বীপের একমাত্র ঝাউ গাছ, ছবি – লেখক

 

 

ছেঁড়া দ্বীপে ভিড়লাম। পানি এতোই স্বচ্ছ যে, ১৫/২০ ফুট নিচের তলদেশও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে! সেখানে মাছ ও কাঁকড়ার ঝাঁক হঠাৎ চোখে পড়ছে! ট্রলারওয়ালা আমাদের ৪০ মিনিট অবকাশ দিলো। নেমেই ডাব খেয়ে নিলাম।

 

ছেঁড়া দ্বীপের ঘাটে স্বচ্ছ পানিতে ১৫/২০ ফুট নিচের তলদেশও দেখা যায়। ছবি-লেখক

ছেঁড়া দ্বীপের ঘাটে স্বচ্ছ পানিতে ১৫/২০ ফুট নিচের তলদেশও দেখা যায়। ছবি-লেখক

 

ছেঁড়া দ্বীপ, দারুচিনি দ্বীপ ও নিঝুম দ্বীপ একই সঙ্গে গাঁথা। সৈকতে প্রচুর কালো প্রবাল। মাটি খুঁড়েও মিঠে পানি পাওয়া যায় না বলে এখানে বসতি নেই বললেই চলে। পার্টনারদের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে, বারবার পিছিয়ে পড়ছি। ছেঁড়া দ্বীপ ও দারুচিনি দ্বীপ ঘোরা হলো। সময় কম বলে নিঝুম দ্বীপের কাছে গিয়েও ফিরতে হলো।

 

ছেঁড়া দ্বীপের কেয়া বনে কেয়া ফল; ছবি-লেখক।

ছেঁড়া দ্বীপের কেয়া বনে কেয়া ফল; ছবি-লেখক।

 

ছেঁড়া দ্বীপে একটিমাত্র পরিবার নাকি বাস করে। কর্তার নাম গিয়াসুদ্দীন। তারই বোনা এবং প্রায় ১৬ বছর ধরে বেড়ে ওঠা একটিমাত্র ঝাউ গাছ অপরিচিতদের দ্বীপটি চেনার একমাত্র উপায়। ওটা, কেয়া গাছ ও কিছু বুনো গাছ ছাড়া ওখানে আর কোনো গাছপালা নেই। এক জায়গায় লবণ তৈরী করতে পানি জমিয়ে রেখেছে। আরেক জায়গায় সামুদ্রিক চাপিলা মাছ মাত্র ধরে এনেছে কোথাও পাইকারি বিক্রি করতে।

 

ছেঁড়া দ্বীপে সামুদ্রিক চাপিলা মাছ; ছবি-লেখক।

ছেঁড়া দ্বীপে সামুদ্রিক চাপিলা মাছ; ছবি-লেখক।

দারুচিনি দ্বীপে গিয়াস ভাই কিউবান সুরের একটি নজরুল সঙ্গীত গাওয়ার চেষ্টা করলেন: ‘দূর দ্বীপবাসিনী, চিনি তোমারে চিনি, দারুচিনির দেশের, তুমি বিদেশিনী গো সুমন্দভাষিণী …।’ ফিরোজা বেগমের কণ্ঠে এখানে পাবেন:

 

সহিসালামতে ফিরে এলাম। সাইমুম আজ চলে যাবে। অনেক অনুরোধ করলাম আরেকটা দিন থেকে যেতে। তাহলে, আমিও ওর সঙ্গে ফিরতে পারি। কিন্তু চাকরির খাতিরে রাজি হলো না। লাঞ্চ সেরে আমরা ওকে জাহাজে তুলে দিলাম। বিরহ বড়ই বেদনার! যতোক্ষণ ওদের জাহাজ দেখা যাচ্ছিলো – ততোক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম।

 

ইতোমধ্যে দিশা ভাইয়ের সম্মুন্দির রিসোর্টের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছি। দু’টি ডবল বেড। গিয়াস ভাই জিরিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আমি ভীষণ ক্লান্ত। তাই, বেশি করে ঘুমিয়ে নিলাম। মাগরিবের ওয়াক্তে তিনি এসে বললেন: তুমি আজও সূর্যাস্ত দেখতে পারলে না। কিছুক্ষণ পর, দিশা ভাইয়ের সম্মুন্দি এলেন। অনেক আলাপ হলো। তিনি যাওয়ার কিছুক্ষণ পর, দিশা ভাইও এলেন। এ দ্বীপ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানলাম। এরপর বেরিয়ে নৈশভোজ সেরে জাহাজ ঘাটে গিয়ে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে এলাম। মাঝে মাঝে সাইমুম কদ্দুর গেলো – খবর নিচ্ছিলাম। ওকে খুব মিস করছিলাম। অবশ্য রাতে গিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে ওর অভাবটা কড়ায়-গণ্ডায় পুষিয়ে নিলাম।

 

পরদিন। আজ আমার ফেরার পালা। গিয়াস ভাইয়ের দু’জন ফটোগ্রাফারও আসবে। ঘাটে গিয়ে বে ক্রুজ জাহাজের টিকেট কাটলাম। ঐ রূম ছেড়ে দিয়ে আগের রিসোর্টে দু’টি রূম ভাড়া নেয়া হলো। যথাসময়ে ওরা এলো। পরিচয় সেরে পরামর্শ করে ঝুঁকি নিয়ে ৩০ টাকা বেশি দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকেই সৌদিয়ার এ-টু সিটের টিকেট কাটলাম।

 

বিকেল ৩টা। কাল যেভাবে সাইমুমকে … আজ সেভাবে আমায় গিয়াস ভাই বিদায় দিলেন। কাল যেভাবে সাইমুমের … আজ সেভাবে গিয়াস ভাইয়ের বিরহে মন ভারাক্রান্ত হলো। সেন্ট মার্টিনকে মনে মনে যেভাবে এঁকেছিলাম, বাস্তবে তা আরও সুন্দর পেয়েছি! সুস্থ হলে, আরো ভালো লাগতো; আরেক রাত কাটাতাম।

 

আল-বিদা সেন্ট মার্টিন। ডেকে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ একটি উড়ুক্কু মাছ পানির উপর দিয়ে দ্রুত কিছু দূর গিয়ে ডুব দিলো! জাহাজটি ছোট হলেও গতি ভালোই। মাঝে মাঝে ঢেউয়ের তালে উঠা-নামা করছে। গাংচিলগুলোর সঙ্গে আবারও দেখা হলো। অনেকেই চিপস খাওয়াচ্ছে। কিন্তু আমার ব্যথিত মনে ঐ উৎসাহ আর ছিলো না! শুধুই দেখে যাচ্ছিলাম। দু’ ঘণ্টার একটু বেশি সময় নিয়ে বে ক্রুজ সবার আগে দমদমিয়ায় ভিড়লো।

 

হঠাৎ একটি উড়ুক্কু মাছ পানির উপর দিয়ে দ্রুত কিছু দূর গিয়ে ডুব দিলো! image-source: bd-journal.com

হঠাৎ একটি উড়ুক্কু মাছ পানির উপর দিয়ে দ্রুত কিছু দূর গিয়ে ডুব দিলো! image-source: bd-journal.com

 

নাফ নদের পানি চাখার সুযোগ হলো না। জাহাজেও হয়নি। পাড়ে যথেষ্ট কাদা ছিলো। অগত্যা কাউন্টারে সিট কনফার্ম করে কাছেই একটি মসজিদে গেলাম।

ওজুখানাটি কেমন যেনো! ছোট্ট একটি ডোবার মতো। পানি দেখেও সন্দেহ হলো! দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ১০ হাত করে হলে, কোনো জলাশয়কে বড় হাউজ বা পুকুর বলা হয়। কিন্তু ওটা অতো বড় নয়। তা সত্ত্বেও পানি তোলার সময় তলা দেখা না গেলে, প্রয়োজনে তাও পুকুর। ওটা অবশ্য তেমনই। আর কাছাকাছি কোনো মসজিদ নেই। সময়ও সংকীর্ণ। কাজেই, এটি বড় হাউজ। এবার পানি। বড় হাউজ বা পুকুরের পানির গন্ধ, স্বাদ ও রং বিকৃত না হলে, তা দিয়ে ওজু হবে।

গন্ধ শুঁকলাম: ওকে।

স্বাদ নিলাম: ওকে।

কিন্তু রং যেনো ডিসকালার! তবে, দূর হতে তা মনে হলেও হাতে নিয়ে রং অবিকৃত দেখা গেলে, তা দিয়েও ওজু চলবে।

অঞ্জলি ভরে দেখলাম: ওকে। এবার ওজু করে কসর পড়লাম। কিছুক্ষণ পর আজান হলে, বারান্দায় একা একা মাগরিব পড়লাম। কেননা, ইমাম সাবের আকীদা ও আখলাক আমার অজানা।

 

কাউন্টারের পেছনের হোটেলে হালি কলা খেয়ে প্রতীক্ষা করতে করতে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় গাড়ী এলো। সাইমুমের সতর্কবাণী: বসার আগে সিট তুলে চেক করে নেবেন যে, অবৈধ কিছু আছে কিনা। ওকে। পথে নিঃসঙ্গতার অস্বস্তি ছাড়া আর তেমন সমস্যা হয়নি। সকাল সোয়া ৭টায় এসে পৌঁছলাম। সৌদিয়ার সার্ভিস আরো ভালো হওয়া দরকার। অনেক কথাই বলা হলো না! ভালো থাকুন। আর দোয়া করবেন যেনো বেশি বেশি কল্যাণকর সফর নসীব হয়। কেননা, আম্মার মতো আমারও মন বলে: এ চলার যদি আর শেষ না হতো! আল্লাহ্ হাফেয।

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews