1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. camelliaubq5zu@mail.com : arnider :
  5. patsymillington@hidebox.org : bennystenhouse :
  6. steeseejep2235@inbox.ru : bobbye34t0314102 :
  7. nikitakars7j@myrambler.ru : carljac :
  8. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  9. sk.sehd.gn.l7@gmail.com : charitygrattan :
  10. clarencecremor@mvn.warboardplace.com : clarencef96 :
  11. dawnyoh@sengined.com : dawnyoh :
  12. chebotarenko.2022@mail.ru : dorastrode5 :
  13. lawanasummerall120@yahoo.com : eltonvonstieglit :
  14. tonsomotoconni401@yahoo.com : fmajeff171888 :
  15. gennieleija62@awer.blastzane.com : gennieleija6 :
  16. judileta@partcafe.com : gildastirling98 :
  17. katharinafaithfull9919@hidebox.org : isabellhollins :
  18. padsveva3337@bk.ru : janidqm31288238 :
  19. michaovdm8@mail.com : latmar :
  20. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  21. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  22. crawkewanombtradven749@yahoo.com : marvinv379457 :
  23. deirexerivesubt571@yahoo.com : meridithlefebvre :
  24. lecatalitocktec961@yahoo.com : normanposey6 :
  25. guscervantes@hidebox.org : ophelia62h :
  26. margarite@i.shavers.skin : pilargouin7 :
  27. gracielafitzgibbon5270@hidebox.org : princelithgow52 :
  28. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  29. berrygaffney@hidebox.org : rose25e8563833 :
  30. incolanona1190@mail.ru : sibyl83l32 :
  31. pennylcdgh@mail.com : siribret :
  32. ulkahsamewheel@beach-drontistmeda.sa.com : ulkahsamewheel :
  33. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
  34. karleengjkla@mail.com : weibad :
  35. whitfeed@sengined.com : whitfeed :
  36. dhhbew0zt@esiix.com : wpuser_nugeaqouzxup :
আমার সেন্ট মার্টিন সফরনামা: দ্বিতীয় পর্ব
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

আমার সেন্ট মার্টিন সফরনামা: দ্বিতীয় পর্ব

সাইফুল ইসলাম রুবাইয়াৎ
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৯৭ বার পড়া হয়েছে
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ; কক্সবাজার
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ; Image Source: thetouristplace.com

প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এইখানে…… 

বলতে ভুলে গেছি! বাদ জুমা মসজিদের আঙ্গিনায় সাইমুমের সঙ্গে আমার মৃদু বচসা হয়! ইমনরা যখন গিয়াস ভাইকে অনুষ্ঠানের তাগাদা দিচ্ছিলো – তখন সাইমুম আমাকে বললো:

“ভাই, আমি কুরআন শরীফ পড়তে চাই। প্রতিদিন কিছুক্ষণ আমি কুরআন শরীফ পড়ি।”

বললাম: “ইসলাম বুঝলে সোজা; নইলে কঠিন। মোবাইল ফোনের সিম কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের প্রায়ই নানা অফার দিয়ে থাকে – যেগুলোর সদ্ব্যবহার করে বুদ্ধিমান গ্রাহকরা সাশ্রয়-সুবিধা নিয়ে থাকে। তেমনি, আল্লাহুতা’লা ও নবীজী দুনিয়ায় সঠিক পথে চলতে-ফিরতে এবং কবর ও আখেরাতের পুঁজি সংগ্রহ করতে আমাদের অনেক বিধি-বিধান দিয়েছেন বটে। আবার এসবে তাঁরা আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধাও দিয়েছেন – যেগুলো বুঝে নিতে হয়।

 

সফরে চার রাকাত ফরজ নামাজ দু’ রাকাত করা হয়েছে। শঙ্কা বা যাত্রাপথে সুন্নতে মুয়াক্কাদাও মাফ। আমরা এখন জুমা না পড়ে যোহর পড়লেও চলতো। কেননা, জুমা ওয়াজিব হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, মুকিম হওয়া। অথচ আমরা এখন মুসাফির। মুসাফিরের জন্যে ফরজ রোজাও ঐচ্ছিক; পরে কাজা করলেও হয়। তেমনি, নিয়মিত নফল ওজীফা রোগী ও মুসাফিররা না পড়লেও এর পুরো সওয়াব পাবে।

মহানবী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: কোনো বান্দা অসুস্থ বা সফরে থাকলে, তার জন্যে তেমন সওয়াবই লেখা হয় – যেমন সে মুকিম ও সুস্থ অবস্থায় আমল করলে লেখা হতো (বুখারী ও আবু দাউদ)।

কাজেই, মুকিম ও সুস্থ থাকতে আমরা যেসব নফল ওজীফা আমল করে থাকি কিংবা কোনো পীর সাব তাঁর মুরীদানকে যেসব ওজীফা বা সবক দিয়ে থাকেন – সেসব রোগী বা মুসাফির আমল না করলেও সমান সওয়াব পাবে! তাই, আপনি এখন কুরআন শরীফ না পড়লেও সমান সওয়াব পাবেন।

সাইমুম বিরক্ত হয়ে বললো: মুসাফির কুরআন শরীফ পড়লে কি সমস্যা হবে?

বললাম: সমস্যা আছে।

নবীজী ফরমান: একজন মুসাফির একটি শয়তান; দু’জন মুসাফির দু’টি শয়তান; আর তিনজন মুসাফির মিলে একটি কাফেলা (মালিক, আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসাঈ, ইবনে খুঝাইমা ও হাকীম)।

আপনি এখন একটি কাফেলার সদস্য। তাই, এমন কোনো কাজ করা সমীচীন হবে না যেনো আপনার কাফেলার লোকেরা বিরক্ত হয়। আমরা এখানে একটি কাজে এসেছি। একটু পরেই অনুষ্ঠান শুরু হবে। তাড়াতাড়ি দুপুরের খাওয়া শেষ করতে হবে। অথচ এ তাড়াহুড়ায় আপনি কিনা কুরআন শরীফ পড়তে বসবেন! আপনি একটি স্কুলের হেডমাস্টার! আপনার কি কাণ্ডজ্ঞান বলে কিছু নেই?

কথাগুলো সাইমুমের ভালো লাগলো না! বললো: ভাই, আপনি খুব যুক্তিবাদী!

বললাম: এ দুনিয়ায় অজ্ঞতাকে যুক্তি দিয়েই মোকাবেলা করতে হয়। বাসে সারারাত আমার পাশে বসে ঘুমালেন কেন? এখন তো মোবাইলে ইন্টারনেট থেকে নিয়ে সহজেই কুরআন শরীফ পড়া যায়। পড়লেন না কেন? এবার সে জব্দ হলো এবং মাথা নিচু করে আমার সঙ্গে চললো। তখন ইমনরা গিয়াস ভাইকে নিয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে। এটা দুপুরে খাওয়ার আগেকার ঘটনা।

 

ইমনদের বাসা চন্দনাঈশ উপজেলার দোহাজারী ইউনিয়নের বারুদখানা গ্রামে। খেয়ে-দেয়ে রওয়ানা হয়ে আশপাশটা দেখছিলাম। শহুরে হাওয়া লেগেছে। গ্রামের সৌন্দর্য ধীরে ধীরে মলিন হয়ে মফস্বলে রূপান্তরিত যাচ্ছে। একটু পরেই আমি ও সাইমুম কমিউনিটি সেন্টার চলে এলাম। সেনার ছেলেদের সঙ্গে গিয়াস ভাই আগেভাগেই এসে পড়েছিলেন।

 

হলরুমে ঢুকে পেছনে বসলাম। উদ্দেশ্য, কোনো মতে সময় কাটানো। তাই, সাইমুম আরো এগিয়ে বসতে বললেও রাজি হলাম না। সেও আমার পাশে বসলো। সামনের সারিগুলোতে বসা ছেলেরা মাঝে মাঝে ঘাড় ঘুরিয়ে কৌতুহলী হয়ে আমায় দেখছিলো। হয়তো ভাবছিলো: এ অপরিচিত মুরব্বী পেছনে বসে কেন? সামনে যাচ্ছেন না কেন? প্রজেক্টর, দু’পাশে বড় বড় দু’টি স্ক্রিন এবং কয়েকটি বিশাল সাউন্ডবক্স সেট করা হয়েছে।

 

একটু পরেই অনুষ্ঠান শুরু হলো। প্রথমে কুরআন তেলাওয়াত; তারপর না’ত। তখন সবাই বসেই ছিলো। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শুরু হলে, সবাই দাঁড়িয়ে গেলো! ব্যাপারটা চরম আপত্তিকর মনে হলো! জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা তেলাওয়াত ও না’তের চেয়ে বেশি নাকি? সেনার ছেলেদের কাণ্ডজ্ঞান আর কবে হবে? কী দরকার ছিলো এখানে জাতীয় সঙ্গীতের? ব্যতিক্রম করতে গিয়ে তারা না বুঝে এভাবেই ইসলাম অবমাননা করে বসলো! সাইমুমও অপ্রস্তুত হয়ে বারবার আমার দিকে তাকাতে লাগলো! জুব্বা পরা থাকায় এমন পজিশন নিলাম যেনো কেউ দেখলে ভাবে দাঁড়িয়ে আছি। আসলে, বসা ও দাঁড়ানোর মাঝামাঝি থাকলাম যেনো রোজ হাশরে জবাবদিহি করতে হলে, অন্তত বলতে পারি যে, আমি ঠিকভাবে দাঁড়াইনি। পরে গিয়াস ভাইয়ের কাছে অভিযোগ করলে, তিনি স্বীকার করলেন যে, সেনার ছেলেদের আন্তরিকতার অভাব নেই; অভাব শুধু সঠিক গাইডের।

 

একে তো পুরো সুস্থ নই। তার উপর ঐ ঘটনায় মনটাও বিষিয়ে গেলো! কিন্তু আমার ধৈর্যের পরীক্ষার তখনও বাকি ছিলো! কিছুক্ষণ পর, কয়েকজন সেনাকর্মী এসে আমায় এমন বিনীতভাবে সামনে যেতে বললো যে, ওদের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারলাম না। দ্বিতীয় সারির বায়ে আমায় বসতে দেয়া হলো। একটু সামনেই প্রকাণ্ড সাউন্ডবক্স! ঐ পাশেও একই দশা। মাঝখানে কিছুটা আসানি ছিলো। কিন্তু এতো সামনে এতো অপরিচিতের সঙ্গে বসাটা খুবই অস্বস্তিকর। তাছাড়া, ওখানে আলোচকরা এসে বসছিলো। আমি ও সাইমুম তো আর দাওয়াত পেয়ে আসিনি, বরং গিয়াস ভাইয়ের সহযাত্রী হয়ে এসেছি। সাইমুম মাঝের সারিতে ঢুকে পড়েছিলো। এদিকে, আলীশান সাউন্ডবক্সের সামনে বসে আমার ফাইট্টা যাওয়ার দশা! বক্তাদের বক্তব্যগুলোর বিকট আওয়াজ আমার কানের পর্দাকে চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছিলো! এবারেও “পারি না সইতে, না পারি কইতে” পরিস্থিতিতে পড়লাম! ঐ অনুষ্ঠানে এতো শব্দদূষণের শিকার হবো, কখনও ভাবিনি! সরে যেতে চেয়েও গিয়াস ভাইয়ের কথা ভেবে …। নবাগত বলে গোবেচারা হয়ে নেহাত ভদ্রতার খাতিরে এসব ধকল হজম করলাম।

 

অধিকাংশ বক্তার বক্তব্য ছিলো গতানুগতিক ও বিরক্তিকর! উপস্থাপক মুহম্মদ ইব্রাহীম (ইবু) তাদের দু’ মিনিট করে বক্তব্য রাখতে অনুরোধ করলেও কে শোনে কার কথা! বক্তাদের উপর ইবুর কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিলো না। অন্তত দশ মিনিটের কম কাউকে বক্তব্য রাখতে দেখেছি বলে মনে হয় না। সময়-জ্ঞানের বালাই নেই! বক্তব্য যাই হোক – মাইক্রোফোনের সামনে বেশিক্ষণ থাকাটাই যেনো মুখ্য! বক্তব্যের দু’টি বিষয় খুবই বিরক্তিকর লেগেছে।

এক, উপস্থাপক কিছুক্ষণ পরপর বলছে: “আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন অমুক। তাকে এখানে আসন গ্রহণ করতে অনুরোধ করছি।” এ কথা জনে-জনে বলার দরকার কী? শুধু সভাপতি ও প্রধান অতিথির ক্ষেত্রে বললেই তো চলে। কেননা, বক্তব্য দেয়ার আগেই তো বক্তার পরিচয় বলে দেয়া হয়।

দুই, প্রায় বক্তাই বক্তব্যের শুরুতে লম্বা ভূমিকা করেছে। যেমন- এখানে উপস্থিত আছেন অমুক-তমুক, ধন্যবাদ জানাচ্ছি অমুককে-তমুককে ইত্যাদি। বক্তাদের বুঝতে হবে যে, লম্বা ভূমিকা ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা দর্শক-শ্রোতাদের বিরক্তি সৃষ্টি করে এবং অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য ব্যাহত করে।

 

যাহোক, প্রাসঙ্গিক কারণেই ক্যারিয়ারিস্টরা আত্মপ্রশংসা শুরু করলো। এক পর্যায়ে আসরের নামাজের বিরতিতে একটু স্বস্তি পেলাম। অজু করবো। কাজী শাহজাহান ভাই গিয়াস ভাই ও আমাকে কাছেই ঐতিহ্যবাহী দোহাজারী দীঘিতে নিয়ে গেলেন। দীঘিটি খুবই চমৎকার ও গর্জিয়াস! সাঙ্গু নদের পর ওখানে ওটি আমার নজর কেড়েছে। কিন্তু তাড়াহুড়ায় ভালো করে দেখতে পারলাম না। অজুর ফাঁকে যতোটুকু পারলাম, দেখে নিলাম। এরপর ঐ কমিউনিটি সেন্টারের সম্ভবত অফিস-রুমে গিয়াস ভাই, শাহজাহান ভাই ও আমি নামাজ আদায় করলাম। আমাদের অনেক দূরে যেতে হবে। তাই, গিয়াস ভাইকে তাগাদা দিলাম। এরপর হলে আবারও আগের জায়গায় গিয়ে বসলাম। একটু পর সাইমুম এলে বললাম: নামাজ পড়েছেন? বললো: না। বললাম: আমরা পড়েছি। শুনে ও অবাক হলো! কেননা, সাধারণত সে আমাদের আগে নামাজ পড়ে। জামাত তার ধরা চাই-ই। ইমাম কেমন, তা ওর কাছে বিবেচ্য নয়; ইলিয়াসী তাবলীগীদের মতো। সে নামাজ পড়তে এক রকম দৌড় দিলো।

 

ক্যারিয়ার আড্ডা অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্ব; ছবি -লেখক

ক্যারিয়ার আড্ডা অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্ব; ছবি -লেখক

 

বিরতির পর আবারও অনুষ্ঠান শুরু হলো। চরম বিরক্তি চেপে বসে রইলাম। অনেক প্রতীক্ষার পর, গিয়াস ভাইয়ের পালা এলো। এদেশে ই-কমার্সের প্রথম উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি ওখানে দাওয়াত পেয়েছেন। তিনি গুছিয়ে মোটামুটি সংক্ষেপেই বক্তব্য দিলেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে তিনি ঝটপট যুৎসই জবাব দিয়ে শেষ করলেন। তারপর মাগরিবের আজান হলো। আমাদের বাসে তুলে দিতে শাহজাহান ভাইগং সঙ্গে চললেন।

 

দোহাজারীর প্রধান সড়কে উঠে পাশের একটি মসজিদে আমরা নামাজ পড়লাম। এরপর শাহজাহান ভাই একটি হোটেলে নিয়ে আমাদেরকে গোশত-পরোটা খাওয়ালেন। আমি হালুয়া দেখে গোশত এড়াতে চেয়েছিলাম। কেননা, ইমনদের বাসায় গুরুপাক খেয়েছি। এখন আবার গোশত খেলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু বলতে কী, গোশতের লোভ সামলাতে পারলাম না! আল্লাহুতা’লা নাম নিয়ে খেয়ে উঠলাম।

নবীজী (’আলাইহিস সলাতু ওয়াস সালাম) কি আর সাধে বলেছেন যে, দুনিয়াবাসী ও বেহেশতবাসীর সেরা খাবার হলো গোশত (ইবনে মাজা)!

 

শাহজাহান ভাই আমার পরিচিত। কিন্তু খেয়াল করলাম, তিনি একান্ত দরকার ছাড়া আমার সঙ্গে কথা বলছেন না! আমায় প্রায়ই এড়িয়ে যাচ্ছেন! সম্ভবত ফেসবুকে আমার কোনো লেখায় বা মন্তব্যে তিনি গোসা করে থাকবেন। তবে, এ’টুকুতেই তিনি গোসা হয়েছেন ভেবে মনে মনে হাসলাম! আবুল হোসাইন মাস্টার সাবও আমার পরিচিত। এক সময়ে ঢাকায় ফ্রন্টের অফিসে এবং মতিঝিল পাড়ায় তার সঙ্গে আমার বেশ কয়েকবার কথাবার্তা হয়েছে; তার ভিজিটিং কার্ডও আমায় দিয়েছেন। অথচ লক্ষ্য করলাম, আমি হলে প্রথম সারিতে বসা সত্ত্বেও তিনি যেনো আমায় দেখেও দেখলেন না! আমায় খেয়াল করেননি বলে তো মনে হলো না! আবার এমনও হতে পারে যে, ফ্রন্ট ছেড়ে দেয়ায় তিনি আমার প্রতি নাখোশ হয়েছেন।

 

এদেশে প্রচলিত সুন্নী রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করি বলে তারা আমার প্রতি নারাজ হতেই পারেন। আমার যেমনি গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে – তাদেরও তেমনি গোসা করার অধিকার আছে। কিন্তু রাজনীতিবিদদের এতো অল্পে অভিমান করা কি সাজে? তারা রমণী হলে মান্না দে’র সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতাম:

সুন্দরী গো দোহাই দোহাই মান কোরো না;

আজ নিশীথে কাছে থাকো না বোলো না …।

 

পুরো গানটি শুনতে চাইলে, এখানে ক্লিক করুন:

 

দেরি হয়ে যাচ্ছিলো! ওখান থেকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার লিংক রোড। এরপর টেকনাফ। পরদিন সকালে দমদমিয়া ঘাটে গিয়ে সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ ধরতে হবে। এস আলম পরিবহন আমাদের নিলো না। অগত্যা শ্যামলী পরিবহনে উঠতে হলো। নিরুপায় না হলে, এ পরিবহনে উঠি না – যতো ভালো সার্ভিসই হোক! কেন? পড়লেই বুঝবেন: ক্লিক করুন…

পরে জেনেছিলাম যে, আমার একটু কষ্ট করে কেরাণীহাটে গেলেই অন্য কোনো ভালো বাসে উঠতে পারতাম।

 

যাহোক, আল-বিদা দোহাজারী। সাঙ্গু নদ ও দোহাজারী দীঘি খুবই ভালো লেগেছে। আমার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। ইমনদের অকৃত্রিম মেহমানদারি, কাজী শাহজাহান ভাইয়ের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সেনাকর্মীদের চমৎকার আদব-কায়দার জন্যে তাদের ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করবো না। ছাত্রসেনার অনুষ্ঠানে টেকনিক্যাল প্রোবলেম ও সচেতনতার অভাব থাকলেও সেনাকর্মীদের নিষ্ঠার কোনো ঘাটতি ছিলো না। কোনো উগ্রতা চোখে পড়েনি। তাদের দরকার সুষ্ঠু নিদের্শনা ও যথাযথ প্রশিক্ষণ। এ জাতীয় কোনো অনুষ্ঠানের আগে বেশি বেশি অনুশীলন ও মহড়া খুবই জরুরি। আয়োজকদের এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। তাদের তত্ত্বাবধানে ছাত্রনেতা ও কর্মীদের কে, কী, কতোটা ও কতোক্ষণ বক্তব্য দেবে – তা আগেভাগেই ঠিক করে বক্তব্যগুলো গুছিয়ে লিখে নিয়ে বড় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বারবার চর্চা করতে হবে। এতে করে, বক্তব্য প্রাসঙ্গিক, সুন্দর ও সারগর্ভ হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ও বাড়তি কথায় সময় নষ্ট হবে না।

 

উপস্থাপককে আরো দক্ষ হাতে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি বক্তব্য রাখলে, তাকে “দশ সেকেন্ডের মাঝে বক্তব্য শেষ করুন” মর্মে চিরকুট ধরিয়ে দিতে হবে। এতেও কাজ না হলে, উপস্থাপক মাইক্রোফোন নিয়ে নেবে এবং ঐ বক্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় করবে। তাহলে, সে ভবিষ্যতের জন্যে সতর্ক হবে।

 

স্বেচ্ছাসেবক বা ভলান্টিয়ারদের অনেক সজাগ, সচেতন ও শক্তিশালী হতে হবে। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া কোনো বক্তা, মেহমান ও দর্শকের কোনো অসুবিধে হচ্ছে কিনা – এ ব্যাপারে কড়া নজর রাখতে হবে। তেমন কিছু চোখে পড়লে, সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মোট কথা, যাত্রা, নাটক ও সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বারবার রিহার্সেল দিয়ে যেভাবে দর্শকদের নিখুঁত অভিনয় উপহার দেয় – সেভাবে কোনো অনুষ্ঠানের আগে ঘনঘন মহড়া দিলে আয়োজক, উপস্থাপক, বক্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের ত্রুটিগুলো সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবে; অনুষ্ঠানও নিখুঁত, সুন্দর, প্রাণবন্ত, আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় হবে; সংশ্লিষ্ট সেনাকর্মীরাও যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করবে। আর আমরাও সমালোচনা করার সুযোগ পাবো না।

 

বাসে উঠে চালকের পেছনে দু’ তিন সারির পর, একটি সিট খালি হতেই বসে পড়লাম। গিয়াস ভাইকে বসতে দেয়া উচিত ছিলো। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও শরীর এতোটাই দুর্বল লাগছিলো যে, তাঁকে বসতে দিতে না পেরে সরি বললাম। তিন ঘণ্টার পথ। আল্লাহপাকের অসীম মেহেরবানীতে এবং রাসুলে পাকের (’আলাইহিস সলাতু ওয়াস সালাম) নেগাহে এতো ধকলের পরেও পেট আমায় বিপদে ফেলেনি! লক্ষ্মী পেট আমার! ওদিকে, সাইমুম চালকের ঠিক পেছনের সিট দু’টি একটু পরেই খালি হবে জানতে পেরে খুশিতে গদগদ করছে! সে ভাবছে যে, গিয়াস ভাইকে নিয়ে ওখানে বসবে এবং চুটিয়ে আড্ডা দিতে দিতে যাবে। কিন্তু ভাগ্য ওর পক্ষে ছিলো না। আমার পাশের ভদ্রলোক উঠে গিয়ে গিয়াস ভাইকে বলতে দিলেন। ব্যস, সাইমুম বোল্ড! আমি ও গিয়াস ভাই পাশাপাশি বসে আরামছে কথা বলতে বলতে চললাম। একটু পরে সাইমুমের ঐ সিট খালি হলে, সে হতাশ হয়ে বসে পড়লো এবং একটু পরেই ঘুমিয়ে গেলো।

 

শ্যামলী পরিবহণের এ বাসটি লোকাল বাসের মতো চলতে এবং যাত্রীদের গালি খেতে লাগলো। এসবে ওরা অভ্যস্ত! ওদের যেনো বুক-পিঠ নেই। এরই মাঝে কাজী শাহজাহান ভাইয়ের বন্ধু ওছমান ভাই কক্সবাজারে আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছেন এবং কিছুক্ষণ পরপর গিয়াস ভাইকে ফোন করে আমাদের অবস্থান জেনে নিচ্ছেন। মাঝে মাঝে শাহজাহান ভাইও গিয়াস ভাইকে ফোন করে কতোদূর গিয়েছি, তা জেনে নিচ্ছেন। বাস যেভাবে চলছে, তাতে কক্সবাজার টু টেকনাফের শেষ বাস মিস করলে, সমস্যায় পড়ে যাবো ভেবে একটু চিন্তা হচ্ছিলো। এ যাত্রাও খারাপ লাগেনি। তবে, রাতে আশপাশের দৃশ্য ভালো করে দেখতে পারিনি।

 

যাহোক, তিন ঘণ্টা পর কক্সবাজার লিংক রোডে পৌঁছে গেলাম। সেখানে একটি কাউন্টারে পানি কমিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। কিছুক্ষণ পর, কক্সবাজার টু টেকনাফের লাস্ট টিপে চেপে ওছমান ভাই এলেন; সঙ্গে দু’জন স্টাফও ছিলেন। তারা সবাই কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে উঠেছেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ঐ মিনিবাসে উঠে পড়লাম। সাইমুম গ্লাস দই কিনে আনলো। সুবহানাল্লাহ, দারুণ মজা! মনে হলো যেনো অমৃত! এবার ওছমান ভাই ও গিয়াস ভাই এক সঙ্গে বাসের বাম পাশে বসলেন। আমি ও সাইমুম বসলাম তাদেরই ডান পাশে। গিয়াস ভাইদের পেছনে ওছমান ভাইয়ের দু’ স্টাফ বসলো। উছমান ভাই আমাকে চিনেন কিনা জিজ্ঞেস করলে, বললেন যে, তিনি ফেসবুকে আমার লেখা পড়েন। ওছমান ভাই কাজী শাহজাহান ভাইয়ের মতোই অত্যন্ত অমায়িক ও দায়িত্বশীল। তাকেও ভালো লেগেছে।

 

একটু পরেই গাড়ী ছাড়লো। মিনিবাস হলে কী হবে! হিনোর চেয়ে কম নয়! ভেতরের লাইট অফ করে বেপরোয়াভাবে ছুটে চললো! দারুণ মজা পাচ্ছিলাম। সাইমুম মাঝে মাঝে ভয় পেয়ে বলছিলো: এভাবে গাড়ী চালানো ঠিক না। কিন্তু আমি এসব মোটেও পরোয়া করি না। কেননা, আমি বিশ্বাস করি যে, আমার ও প্রত্যেকের মৃত্যু কীভাবে হবে, তা আল্লাহুতা’লা আগেই লিখে রেখেছেন। এর কোনোই হেরফের হবে না। কাজেই, এ নিয়ে শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করে কোনোই লাভ নেই। গাড়ীতে ওঠে নির্ধারিত দোয়া পড়া পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব। এরপর গন্তব্যে পৌঁছতে পারবো নাকি দুর্ঘটনায় মারা যাবো – সে দায়িত্ব আল্লাহপাকের; বান্দার নয়।

 

বঙ্গোপসাগর; Image-Source: en.wikipedia.org

বঙ্গোপসাগর; Image-Source: en.wikipedia.org

 

রাতে কক্সবাজারের দৃশ্য ভালো করে দেখা না গেলেও বঙ্গোপসাগর ঠিকই দেখলাম। সেই কবে – ২৩ বছর আগে তাকে দেখেছি! শ্যামলীতে ঘুমিয়ে সাইমুম বেশ চাঙ্গা হয়েছিলো। ওর সঙ্গে মজার আলাপ করতে করতে ভালোই সময় পার করছিলাম। এভাবে প্রায় দু’ ঘণ্টায় টেকনাফ পৌঁছে গেলাম। তখন রাত ১২টা বাজতে ১০ মিনিট বাকি।

টেকনাফে হোটেল দ্বীপ প্লাজা

টেকনাফে হোটেল দ্বীপ প্লাজা

 

টেকনাফে ওছমান ভাই হোটেল দ্বীপ প্লাজার তিনতলায় দু’টি সিঙ্গেল বেডের একটি কক্ষে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। কক্ষটি বেশ! ওছমান ভাইয়ের বাসা কাছেই। তিনি সকালে আমাদের দমদমিয়া ঘাটে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত থাকতে বলে আপাতত বিদায় নিলেন। টয়লেটটিও সুন্দর। যে যার মতো ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এরপর তিনজন একে একে নামাজের স্থানে গিয়ে এশা ও বেতেরের নামাজ আদায় করলাম। কারো পেটেই ক্ষুধা নেই। কাজেই, শোয়ার আঞ্জাম শুরু হলো। গিয়াস ভাই ও সাইমুম সিঙ্গেল খাট দু’টি টেনে এনে জোড়া লাগালেন। ৩টি বালিশ থাকলেও দু’টি কম্বল ছিলো। আমি মাঝে, বায়ে গিয়াস ভাই ও ডানে সাইমুম কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো। আমার তেমন শীত করছিলো না। তাই, কম্বল দরকার হয়নি। দু’ রাতের সফরের ধকলে সবারই দেহ বেশ অবসন্ন হয়ে পড়েছিলো। মোবাইলে ফজরের এলার্ম দিয়ে শুয়ে পড়লাম। বেশ আরামেই ঘুমালাম। কোন ফাঁকে যে রাত কেটে গেলো – টেরই পেলাম না। ফজরের এলার্মে জেগে গিয়ে ঐ দু’জনকেও জাগালাম। ফ্রেশ হয়ে ওজু করে একে একে নামাজ আদায় করে নিলাম। (চলবে)

 

শেষ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এইখানে ……… 

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

দিন রাত্রি’তে বিজ্ঞাপন দিন

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews