1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  5. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  6. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  7. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  8. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
কেন আপনি দিরিলিশঃ এরথুরুল দেখবেন? সিজন-১ রিভিউ
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

কেন আপনি দিরিলিশঃ এরথুরুল দেখবেন? সিজন-১ রিভিউ

যাহিদ হাসান জিম
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৯৪১ বার পড়া হয়েছে
সিজন ১ এর কভার ছবি; Image Source: playdesi.tv
আমি কোনো টিভি সিরিজ দেখা শুরু করলে চেষ্টা করি খুব মনোযোগের সাথে খুঁটিনাটি খোঁজ করে দেখতে। তবে “দিরিলিশঃ এরথুরুল” যেনো-তেনো কোনো টিভি সিরিজ নয়৷ এর উপজীব্য হচ্ছে, ইসলামের ইতিহাস। আর এর কেন্দ্রীয় চরিত্রসহ প্রধান চরিত্রগুলো এমন কিছু ব্যক্তিত্বকে ঘিরে আবর্তিত, যাদের রয়েছে বাস্তব অস্তিত্ব ও ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মহান অবদান। তাই সিরিজটি উপভোগ করতে গিয়ে, বিনোদনের পাশাপাশি, কাহিনীর সাথে ইতিহাসের মিল-অমিল খুঁজে বেড়াতেই আমার মনোযোগ যেনো বেশি ছিলো।
এ লেখাটি মূলত সিরিজের সিজন ১-এর একটি ব্যক্তিগত রিভিউ। প্রথমেই সিরিজের নামকরণের তাৎপর্য তুলে ধরে, একে-একে সিজন-১ এর প্রেক্ষাপট, আমার ভালোলাগা ও মন্দলাগাগুলো এবং সবশেষে, সিজন ১-এর মূল শিক্ষনীয় বিষয় তুলে ধরবো।সিজন 
দিরিলিশ এর অর্থ এবং নামকরণের তাৎপর্যঃ
সিরিজটির সম্পূর্ণ নাম, diriliş: ertuğrul. এখানে diriliş শব্দটির সঠিক উচ্চারণ দিরিলিশ (তালব্য ‘শ’), দিরিলিস নয়৷ এর অর্থ, পুনরুত্থান। সিজন-১ দেখার পর অন্যান্য সিজনগুলো না দেখেই অনুধাবন করা যায়, কতোটা তাৎপর্যপূর্ণ সিরিজটির নামকরণ। লোভ, অন্তর্দ্বন্দ্ব আর অহঙ্কারে ডুবে থাকা শত-বিভক্ত মুসলিম জাতির একটি পুনরুত্থান ছিলো সময়ের দাবি। এমন সময় ত্রাণকর্তা হিসেবে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আবির্ভূত হন এরথুরুল গাযী এবং মুসলিম জাতিগুলোকে বিভিন্ন অপশক্তির বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহস যোগান।

এরথুরুল বেইম চরিত্রে ইঞ্জিন আলতান দোজায়াতান এবং হালিমা সুলতানা চরিত্রে এসরা বিলগিজ; Image Source: pinterest.com/pin/780459810396994546/

সিজন ১-এর প্রেক্ষাপটঃ
১ম পর্বের শুরুতেই কায়অ বসতি দেখানোর সময় লেখা ছিলো ১২২৫ (সাল)। অর্থাৎ, ১ম পর্বের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ১২২৫ সালের ঘটনাবলী ঘিরে।

কায়অ (কাই) বসতি; Image Source: deviantart.com

 

কায়অ (কাই) গোষ্ঠী মূলত ওয়ুয খানের বংশধারাভুক্ত বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার একটি যাযাবর গোষ্ঠী, যারা যাযাবর জীবনের অবসান ও নতুন একটি স্থায়ী আবাসের লক্ষ্যে সিরিয়ার হালাবে (আলেপ্পো) গমন করে। এদিকে, বিভিন্ন ঘটনার পর সালাউদ্দীন আল-আইয়ুবীর নাতি হালাবের যুবক আমীর, আল-আঝীঝ মুহাম্মাদের (১২১৩-১২৩৬ খৃঃ) অভিভাবক, শিহাবুদ্দীন তুঘরীল (যিনি আমীরের বাবা আয-যহীরের একজন মুক্ত দাস ছিলেন) শাহাদাত বরণ করেন।
প্রথমত, ইতিহাস থেকে জানা যায়, শিহাবুদ্দীন তুঘরীল, আমীর আল-আঝীঝের অভিভাবক হিসেবে হালাবের শাসনকাজ পরিচালনা করতে থাকেন ১২৩১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এতে বুঝা যায়, সিজন-১ এর প্রেক্ষাপট মূলত, ১২২৫-১২৩১ খ্রিস্টাব্দে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী।
দ্বিতীয়ত, শায়্যিখ ইবনে আরাবীর জীবনকাল ১১৬৫-১২৪০ খৃঃ। এ দিক দিয়েও, ইবনে আরাবীর সাথে এরথুরুলের সাক্ষাৎ ঐতিহাসিকভাবে সম্ভব ও সত্য। অর্থাৎ, সিজন ১-এর প্রেক্ষাপট হচ্ছে, শায়্যিখ ইবনে আরাবীর ওফাতের ৮-১৫ বছর আগের ঘটনাবলী।

শেখ মুহীউদ্দীন ইবনুল আরাবীর (’আলাইহির রহমাহ) চরিত্রে অভিনয়কারী উছমান শওকত; Image Source: showbizhut.com

একটি বিশেষ দিকঃ
সিজন ১ শুরু হয় দু’টো বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে৷ ১ম পর্বের শুরুতে জ্বলন্ত লোহা পেটাতে পেটাতে এরথুরুল বলতে থাকে, ‘হায়দর আল্লাহ’ (আল্লাহ চিরঞ্জীব) আর দেলি দিমির বলতে থাকে ‘হাখথর আল্লাহ’ (আল্লাহই সত্য)। বাংলা ডাবিংয়ে এ দু’টো বাক্যের ভুল অনুবাদ (আল্লাহ মহান, আল্লাহ এক) করা হলেও, মূল শিক্ষাটি হচ্ছে, আল্লাহর উপর নির্ভর করা এবং আল্লাহর পথে দৃঢ় বা অবিচল থাকা। ‘হায়দর আল্লাহ’র পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর কোনো মৃত্যু নেই। আর ‘হাখথর আল্লাহ’র পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহই সত্যিকার অর্থে অস্তিত্বশীল এবং সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দানকারী। কাজেই, আল্লাহকে সদা-সত্য-পরম সত্ত্বা জেনে কোনো কাজে হাত দিলে, তার দায়ভার আল্লাহই নিয়ে নেন। এ বিশ্বাস নিয়েই এরথুরুল ও দেলি দিমির আমৃত্যু সংগ্রাম করে গিয়েছেন।
সিজন ১-এ দেখা যায়, সেলজুক সালতানাতের একজন বিশ্বস্ত সেনাপতি এবং এরথুরুলের অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী, আফশীন বে’র সাহায্যে এবং বিশ্বখ্যাত আল্লাহর বন্ধু, মুহিউদ্দীন ইবনে আরাবীর দোয়া ও আধ্যাত্মিক সাহায্যে, এরথুরুল ক্রমান্বয়ে বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত এবং হালাবের কাছাকাছি থাকা শত্রুদের পরাজিত করতে থাকে।
ভালোলাগা সমূহঃ
 সিজন ১-এ প্রদর্শিত কিছু সংস্কৃতি ভালো লেগেছে৷ যেমন,
(১) কারও সাথে চোখে চোখ পড়লে, ছেলেদের ক্ষেত্রে বুকে হাত দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে মুচকি হেসে মাথা অল্প নিচু করে অভ্যর্থনা জানানো। এর ব্যতিক্রম হলে, ধরে নিতে হবে, কেউ রেগে আছে বা অন্য কোনো সমস্যা আছে।
(২) “আল্লাহ চিরঞ্জীব, আল্লাহই সত্য” বলে তরবারী প্রস্তুত এবং শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়া।
(৩) নিজেদের ক্ষমতায়নের পরিপন্থী একজন মুসলিম হলেও, তাদের মৃত্যু কার্যকর বা নিশ্চিত করাকে প্রয়োজন মনে করা৷
(৪) কবর যিয়ারত করে এবং মৃতের রূহের প্রতি ফাতিহা পেশ করা।
(৫) যে কোনো দোয়ায় আল-ফাতিহা পড়াকে বাঞ্চনীয় মনে করা। এর অর্থ হচ্ছে, আপনারা সবাই একবার করে সূরা ফাতিহা পড়ে নিন।
যুদ্ধক্ষেত্রে কায়ী গোষ্ঠীর পারদর্শীতার দিকটি ভালো লেগেছে। সিজন ১-এ দেখানো হয়েছে, এরথুরুল এবং তার বড় ভাই গুন্দোওদু অব্যর্থ তীর থেকে নিজেদের বাঁচাতে সক্ষম। এছাড়া, বামসি যে দুই হাতেই তরবারী চালানোতে দক্ষ এবং খুব মজার মানুষ ছিলেন, এ ঐতিহাসিক সত্যটিও সিরিজে স্থান পেয়েছে। ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য একতা ও দক্ষ একদল সৈন্যবাহিনী প্রয়োজন, এ ব্যাপারেও এরথুরুলের গুরুত্বারোপ লক্ষ্যণীয়। নাইটদের দুর্গে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও সেনা তুর্গুতের ঈমানদারীর পরিচয় দেয়ার বিষয়টিও হৃদয় কেড়েছে। তুর্গুত আল্পের ঈমানদারীর কথা শুনে, বাইযেন্টাইনদের প্রধান উজির পেত্রিসিও বলতে বাধ্য হয়েছে যে, “নীল পানির বিষ হচ্ছে এক কথা, আর অন্যদিকে আছে ওদের ঈমান।”
এছাড়া, আরও কিছু ব্যাপার ভালো লেগেছে। যেমন,
(১) সাদা দাড়িওয়ালাদের সাথে এ সিজনেই (ভলিউম ২৬) এরথুরুলের সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়ে গিয়েছে। ফলে, এরথুরুল আরও সাহস পেয়েছেন এবং জেনেছেন যে, তিনি একা নন। সাথে, পরবর্তী দিক-নির্দেশনাও পেয়েছেন।
(২) ইবনে আরাবীর আদেশে, নাইট গ্লডিয়াসের ইসলামে দীক্ষিত হয়ে ওমর নাম ধারণ করে, মুসলিমদের গুপ্তচর হিসেবে নাইটদের দুর্গে কাজ করাটা সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত ছিলো, যদিও তাকে ধূর্ত তিতুস চিনে ফেলে এবং শহীদ করে।
(৩) বাংলায় প্রতিনিধি থমাসের কথা বলার ধরণে হাসি পেয়েছে।
(৪) শেষ ভলিউমে তিতুসের গর্দান নেয়াটাও আকাঙ্ক্ষিত ছিলো।
(৫) এছাড়া, যে সেলজান হাতুন সবসময় কূটচাল চালতে ব্যস্ত থাকতো, শায়্যিখ ইবনে আরাবীর সুপরামর্শে তার সুবুদ্ধির উদয় হওয়াতে শেষে কিছু উপকার তার দ্বারা সাধিত হয়েছে। একটি কথা না বললেই নয়, এ সিজনের চরিত্রগুলোর মাঝে সবচেয়ে সুদর্শন ছিলেন তুর্গুত আল্পের চরিত্রে অভিনয়কারী জেঙিয জোশখুন।
মন্দলাগা সমূহঃ
সিজন-১ এর একটি সংস্কৃতি ভালো লাগেনি। তা হচ্ছে, কায়অ গোষ্ঠীর পুরুষরা ঘরের বাইরে মাথা ঢাকলেও, নামাজের সময় ঘরে কিংবা বাইরে মাথা ঢাকে না। আমার কাছে মনে হয়েছে – আরও কিছু ব্যাপারে সতর্ক থাকলে ভালো হতো। যেমন,
(১) ১১ নং ভলিউমে দেখিয়েছে, এরথুরুল এবং গুন্দোওদু জঙলে বসে, বাম হাতে খাওয়া-দাওয়া করছে!
(২) ১৬ নং ভলিউমে দেখিয়েছে, জুম’আর নামাজে ইমামের আগেই কয়েকজন সিজদায় চলে গিয়েছে!
(৩) ২৬ নং ভলিউমে এ দেখিয়েছে, আফশিন বে স্বশরীরে ক্যারাভান সারাতে সোলামান শাহ, এরতুরুল এবং অন্যান্যদের স্বাগত জানালেও পরে একজনকে জিজ্ঞেস করে, “এরতুরুল এসে গিয়েছে?”
(৪) এছাড়া, ২১ নং ভলিউমে তিতুস, প্রধান উযীর পেত্রিসিওকে জানায়, সুলতান আলাউদ্দীনের গাড়িবহর থেকে মালিকাকে অপহরণ করে এবতালিয়ার সাথে একজন খাস রক্ষীসহ একটি গুহায় রাখা হয়। পরে তিতুস ওদেরকে নিয়ে দুর্গে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু পরে সুলেমান শাহকে জানানো হয়, ঐ বিয়ে সফলভাবেই হয়েছে। মাঝে কীভাবে মালিকা মুক্তি পেলেন। আইয়ুবী সেনাদের আক্রমণে নাকি অন্যকোনোভাবে, তা অস্পষ্ট ছিলো।
সিজন ১-এর মূল শিক্ষাঃ
সিজন ১ শেষে আমার সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন হচ্ছে, ক্ষমতায় যাওয়া ব্যতীত মুসলিমরা কখনোই নিরাপদ নয়। একমাত্র ক্ষমতায় যাওয়াই মুসলিমদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এ ইস্যুতে যে কোনো দল-উপদল-মতের মুসলিম গোষ্ঠীগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।
সিজন ১-এর অন্যতম মূল শিক্ষা হচ্ছে, গোষ্ঠীর মাঝে থাকা বিশ্বাসঘাতক এবং ছদ্মবেশীদের থেকে সদা সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে এবং শৈথিল্য নয়, বরং যে কোনো মূল্যে ন্যায়বিচার করতে হবে।
সিজন ১-এর আরেকটি অন্যতম দিক হচ্ছে, খ্রিস্টানরা যে শুধু ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী, তাই নয়, ওরা নিজেদের মাঝেও বহুধা বিভক্ত। তবে যখন ইসলাম কিংবা অন্য ধর্ম-বর্ণের কথা আসে, তখন ওদের সেসব দল-উপদল ঐক্যবদ্ধ। তাই ওরা বিভিন্ন যুদ্ধে পরাজিত হলেও ইউরোপকে নিজেদের হাতেই রেখেছে।
কাজেই, যতোই আমরা সিরাতুল মুস্তাকীমে আছি দাবি করি না কেনো, একতা বজায় রেখে ইসলাম ও মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ’র সিরাতুল মুস্তাকীমের উপর দৃঢ় থাকা কঠিন, কণ্টকাকীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়বে৷ তাই সিজন ১-এর মূল শিক্ষা হচ্ছে, শান্তিতে বসবাস করতে হলে, কোনো বসতির বাসিন্দাদের মাঝে সততা ও বিশ্বাস বজায় থাকা অপরিহার্য। একইসাথে, অতিরিক্ত অর্থ ও ক্ষমতার লোভ-লালসা, মিথ্যা, অন্যায় ও অবিচার পরিত্যাজ্য।

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews