1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. adrienne.edmonds@banknews.online : adrienneedmonds :
  3. annette.farber@ukbanksnews.club : annettefarber :
  4. camelliaubq5zu@mail.com : arnider :
  5. patsymillington@hidebox.org : bennystenhouse :
  6. steeseejep2235@inbox.ru : bobbye34t0314102 :
  7. nikitakars7j@myrambler.ru : carljac :
  8. celina_marchant44@ukbanksnews.club : celinamarchant5 :
  9. sk.sehd.gn.l7@gmail.com : charitygrattan :
  10. clarencecremor@mvn.warboardplace.com : clarencef96 :
  11. chebotarenko.2022@mail.ru : dorastrode5 :
  12. lawanasummerall120@yahoo.com : eltonvonstieglit :
  13. tonsomotoconni401@yahoo.com : fmajeff171888 :
  14. judileta@partcafe.com : gildastirling98 :
  15. padsveva3337@bk.ru : janidqm31288238 :
  16. michaovdm8@mail.com : latmar :
  17. mahmudCBF@gmail.com : Mahmudul Hasan : Mahmudul Hasan
  18. marti_vaughan@banknews.live : martivaughan6 :
  19. crawkewanombtradven749@yahoo.com : marvinv379457 :
  20. deirexerivesubt571@yahoo.com : meridithlefebvre :
  21. lecatalitocktec961@yahoo.com : normanposey6 :
  22. gracielafitzgibbon5270@hidebox.org : princelithgow52 :
  23. randi-blythe78@mobile-ru.info : randiblythe :
  24. berrygaffney@hidebox.org : rose25e8563833 :
  25. incolanona1190@mail.ru : sibyl83l32 :
  26. pennylcdgh@mail.com : siribret :
  27. harmony@bestdrones.store : velmap38871998 :
  28. karleengjkla@mail.com : weibad :
  29. dhhbew0zt@esiix.com : wpuser_nugeaqouzxup :
একটি স্বাধীন হায়দারাবাদ, আগ্রাসী ভারত এবং অপারেশন পোলো
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১০:২৮ অপরাহ্ন

একটি স্বাধীন হায়দারাবাদ, আগ্রাসী ভারত এবং অপারেশন পোলো

তাহমিদুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০
  • ৮৬৪ বার পড়া হয়েছে
হায়দারাবাদ, Image Source: indiaeducation.net

হায়দারাবাদী ছবি, হায়দারাবাদী বিরিয়ানী, হায়দারাবাদী চিকিৎসা খুবই বিখ্যাত। ক্রিকেটার মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নামটা আমাদের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে ব্যাপক। আর দক্ষিণী ছবি, মাদ্রাজে চিকিৎসা, এসব কারণেও হায়দারাবাদ আমাদের কাছে মোটামুটি পরিচিত। এদের ছবিগুলোকে আমরা দক্ষিণী ছবি বলি। দাক্ষিণাত্য হিসেবে খ্যাত এই হায়দারাবাদ।

যারা হায়দারাবাদ গিয়েছেন তারা জেনে থাকবেন, এরা হিন্দিকে কি পরিমাণ ঘৃণা করে। দক্ষিণ ভারতের এই অঞ্চলের মানুষেরা হিন্দি বুঝে না (অথবা বুঝেও বুঝে না)। এরা হিন্দি শিখেও না। এমনকি এরা নিজেদেরকে ভারতীয় বলেও মনে করে না। ব্যাপারটা আমার বেশ অবাক লেগেছিল। ভারতীয় নাগরিক হয়েও এরা হিন্দি বুঝে না, শিখে না। আবার নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক বলেও মনে করে না। ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত ঠেকেছিল আমার কাছে।

তখনো আমি হায়দারাবাদের পরাধীনতার ইতিহাস জানি না। ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় ভারত বর্ষের বিভিন্ন রাজ্যগুলোকে তিনটি অপশন দিয়েছিল—

১. ভারতের সাথে থাকা
২. পাকিস্তানের সাথে থাকা অথবা
৩. নিজে নিজে স্বাধীন থাকা।

বেশীরভাগ অঞ্চলগুলো ভারতের সাথে যোগ দিয়েছিল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট অঞ্চলগুলো পাকিস্তানের সাথে যোগ দিয়েছিল। পাকিস্তানের সাথে যোগ দেওয়া এবং স্বাধীন থাকতে চাওয়া কিছু অঞ্চল পরে ভারত দখল করে নেয়। যার মধ্যে ত্রিবাংকুর, ভোপাল, যোধপুর, জুম্ম-কাশ্মীর, জুনাগড়, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। অল্প কয়েকটিমাত্র অঞ্চল তৃতীয় অপশনটি বেছে নিয়ে একা স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার মধ্যে হায়দারাবাদ এবং সিকিম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্লান্ত ব্রিটেন ভারত উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় পর্যন্ত ৫০০ এর বেশী ছোট রাজ্য ছিল এই উপমহাদেশে। সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত প্রদেশগুলোর কেউ পাকিস্তানে গেল, আর কেউ ভারতের সঙ্গে রইল। এছাড়াও ভারতে অনেকগুলো রাজ্য ছিল যেগুলো ব্রিটিশদের দ্বারা নয় বরং অনেকটা স্বাধীন রাজা দ্বারা শাসিত হতো। উদাহরণস্বরূপ কাশ্মীরের কথা বলা যায়, যা হিন্দু মহারাজা হরি সিং কর্তৃক শাসিত হতো, কিংবা হায়দারাবাদ— যা নিজাম বা নবাব দ্বারা শাসিত হতো।

এ সকল রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী ছিল হায়দ্রাবাদ রাজ্য। হায়দারাবাদের নিজস্ব সেনাবাহিনী, এয়ারলাইন্স, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মুদ্রা ছিল। ছিল অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগ ব্যাবস্থা, জাতীয় সংগীত ও আলাদা রাষ্ট্রভাষা। এছাড়া ছিল জাতিসংঘে নিজস্ব প্রতিনিধি। ছিল বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত। জনসংখ্যা ছিল দেড় কোটিরও বেশী।

হায়দারাবাদের তৎকালীন নিযাম-উল-মুলক উসমান আলী খান ছিলেন সে সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। হায়দারাবাদের শাসনকর্তা নিযাম-উল-মুলক হায়দারাবাদ স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন। বৃটিশরা চলে যাওয়ার পর ভারত এবং পাকিস্তানের পাশাপাশি একই দিনে হায়দারাবাদও স্বাধীনতা লাভ করে। হায়দারাবাদের শাসক ছিলেন নিযাম-উল-মুলুক স্যার মীর ওসমান আলী খান আসাফ জাহ (সপ্তম আসাফ জাহ)। তিনি ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের সেরা ধনী। আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিন ১৯৩৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী তাকে নিয়ে প্রচ্ছদ করে।

নিযাম-উল-মুলক হায়দারাবাদ ওসমান আলীকে খানকে নিয়ে করা টাইম ম্যাগাজিনের সেই দূর্লভ প্রচ্ছদ,Image Source: content.time.com

নিবন্ধে তাকে বিশ্বের সেরা ধনী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের নিজামসাগর লেক, হায়দারাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক অব হায়দারাবাদ তারই অবদান। এমনকি জামিয়া নিজামিয়া, দারুল উলুম দেওবন্দ, বানারাস হিন্দু ইউনিভার্সিটি এবং আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরাট অবদান রয়েছে, সব চেয়ে বড় ডোনার ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ সালে নিজাম ওসমান আলী খান প্রিন্সেস এলিজাবেথকে তার বিয়ে উপলক্ষে হীরা, টায়রা খচিত একটি হার উপহার দেন। এটি হায়দারাবাদের নিজামের হার নামে পরিচিত।

ভারতের মাঝখানে স্বাধীন একটি মুসলিম দেশ। এটা কোনোভাবেই ঠিক মেনে নিতে পারছিল না ভারত। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু নিযামকে ভারতের সাথে একীভূত হওয়ার আহবান জানান। কিন্তু নবাব সেই আহবান প্রত্যাখান করে বলেন— হায়দারাবাদ আগেও স্বাধীন ছিল, এখনো স্বাধীন থাকবে। নানা ভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে নেহেরু। কিন্তু কাজ হয় না। সমস্যা হচ্ছে হায়দারাবাদ শিক্ষা-দীক্ষা, অর্থনীতি, চিকিৎসা, রাস্তাঘাট সব দিক দিয়েই ভারতের চেয়ে বহুগুণ উন্নত। আয়তনেও ছোট নয়। ভারতের অন্যসব প্রদেশের চেয়েও বিশাল। আধুনিক ফ্রান্সের চেয়েও বড়। দখল হওয়া হায়দারাবাদকে ভেঙ্গে তিনটি রাজ্যে ভাগ করা হয়েছে পরে।

দিল্লীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, যে-কোনোভাবেই হায়দারাবাদকে দিল্লীর দখলে আনতে হবে। মূল পরিকল্পনাকারীর দায়িত্বে ছিল গুজরাটি সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল। যিনি জুনাগড় দখলে সাফল্য দেখিয়েছেন ইতোপূর্বে। সরাসরি একটি স্বাধীন দেশে আক্রমণ করা যায় না। দরকার অযুহাত। উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলগুলো ভারতের ইন্ধনে হায়দারাবাদের অভ্যন্তরে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে মুসলিম জমিদার ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যা শুরু করে। এক হিসাব মতে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি তাদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলিম নেতাদের পাশাপাশি কিছু হিন্দু নেতা (যারা ভারতের কোনো কাজে আসবে না) দেখে হত্যা করা হয়। এই গুপ্ত হত্যাকান্ডের মূল দায়িত্বে ছিল ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স ‘Intelligence Bureau (IB)’— যা পরে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে RAW হয় এবং এখন অব্দি ‘র’ নামেই পরিচিত)।

IB এর তৎকালীন ডিরেক্টর ছিলেন সঞ্জিব পিল্লাই। ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স অনেকটাই সফল হয়। মুসলিম নেতা এবং হিন্দু নেতা হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাধারণ মুসলিম আর সাধারণ হিন্দুদের মধ্যে পরস্পর বিরোধী তিক্ততা বেড়েই চলেছে। এদিকে উগ্রহিন্দুদের নেতৃত্বে কমিউনিস্টরা গুপ্তহত্যা করেই চলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিযাম স্থানীয় যুবকদের নিয়ে গঠিত রাজাকারদের (বাংলায় যার অর্থ হয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী) দায়িত্ব দেন হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধের। রাজাকারেরা কমিউনিস্টদের পাকড়াও অভিযান শুরু করে, অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। কমিউনিস্টরা প্রায় সবাই ছিল হিন্দু, সুতরাং এ সুযোগকে কাজে লাগালো ভারত সরকার। বহুল প্রতীক্ষিত হায়দারাবাদ দখলের অজুহাত এখন তাদের হাতে, তারা প্রচার করলো উগ্র মুসলিম রাজাকারেরা পাইকারী হারে হিন্দুদের হত্যা করছে। হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালায় ভারত। তখন টিভি, ইন্টারনেট ছিলো না। এর কিছুই তখন সাধারণ মানুষ জানে না। এমনকি যাদের উপর নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রচারণা চালিয়েছে ভারত, তারাও জানে না এর কিছুই।

১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর।
সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের মানুষ প্রতিদিনকার মত কর্ম ব্যাস্ত। মায়েরা বাচ্চাদের নিয়ে খেলছে। বাচ্চারা মাঠে ছুটোছুটি করছে। শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করছেন ছাত্রদের। অফিসে আদালতে পতপত করে উড়ছে স্বাধীন হায়দারাবাদের পতাকা। ওরা কেউ জানতই না স্বাধীন জাতি হিসেবে এটা তাদের শেষ দিন। দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি কখনো কেউ। ‘অপারেশন পোলো’ সাংকেতিক নামে বিনা উস্কানীতে চারদিক থেকে ভারতীয় সেনা ঢুকে পড়ে স্বাধীন সার্বভৌম হায়দারাবাদে। বিশ্বকে জানানো হল, নির্যাতিত হিন্দুদের সাহায্য করতে এসেছে তারা। সামান্য পুলিশি অভিযান মাত্র। কয়েক লক্ষ ভারতীয় সেনা প্রবেশ করে হায়দারাবাদে সেদিন।

শুরু হয় লুটতরাজ, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ। মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে ভস্ম করে দেওয়া হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় গ্রামের পর গ্রাম। চির সবুজ হায়দারাবাদ প্রথম দিনেই পরিণত হয় ভস্ম, ছাই আর মৃত্যুকুপে। রেহায় পায়নি দেশপ্রেমিক হিন্দুরাও। ওরা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করেনি হিন্দু না মুসলমান। ধর্ষণ করার আগেও জিজ্ঞেস করেনি হিন্দু বা মুসলিম কি-না! ঘরবাড়ি-সহ জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় হায়দারাবাদীদের। মেয়েদেরকে আগেই ট্রাকে ভরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার হদিশ এখনো জানে না কেউ।

দ্বিতীয় দিনেই ভারতীয় সেনাদের সাথে হাত মেলায় স্থানীয় কিছু রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। উগ্রবাদী হিন্দুরাও যোগ দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে। লুটতরাজ, খুন চালিয়ে যেতে থাকে। একদিকে ইন্ডিয়ান আর্মির কাছে মুসলিমদের সঙ্গে মার খাচ্ছে নিরীহ হিন্দুরা। অন্যদিকে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে উগ্র হিন্দুরা। মুল টার্গেট ছিল অবশ্যই মুসলমানরা। হিন্দু হতাহতের সংখ্যা অল্পই। পন্ডিত সুন্দরলাল তার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন—

‘ভারতীয় বাহিনী নিজেরা লুটতরাজ করে থেমে থাকেনি, স্থানীয় হিন্দু অধিবাসীদেরও মুসলমানদের হত্যা এবং লুটতরাজ করতে বাধ্য করেছিল।‘

শুরুর দিকে নির্বিচারে হত্যা করা করা হলেও পরে বেছে বেছে হত্যা করা হয় মুসলিমদের। রুখে দাঁড়ায় হায়দারাবাদ আর্মি। প্রাণপণে লড়তে থাকে তারা ভারতীয় আর্মিদের বিরুদ্ধে। লক্ষাধিক ভারতীয় আর্মীর বিপরীতে হায়দারাবাদের আর্মী ছিল মাত্র ৬ হাজার। আর তাদের সাথে সেচ্ছাসেবকদের সংগঠন রাজাকার এর সংখ্যা ছিল ২০ হাজার। লক্ষাধিক ভারতীয় আর্মির বিপরীতে এই সংখ্যা কিছুই না। ব্যাপক রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটে।অবশেষে পরাজিত হয় স্বাধীন হায়দারাবাদের সেনাবাহিনী। পরাজিত হয় হায়দারাবাদ। ৬ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এবং যুদ্ধ পরবর্তী গণহত্যায় নিহত হয় প্রায় দশ লক্ষ মানুষ।

১৮ সেপ্টেম্বর সকালে সিকান্দারাবাদে ভারতীয় মেজর জেনারেল জয়ন্ত নাথ চৌধুরীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন হায়দারাবাদের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল সাইয়েদ আহমেদ এল এদরুস। স্বাধীনতা হারিয়ে হায়দারাবাদ ভারতের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।ইতিহাসে এই হত্যাকান্ড ‘অপারেশন পোলো’ নামে পরিচিত।

ভারত এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন পোলো’। (গোটা ভারতবর্ষের মধ্যে হায়দারাবাদ-দাক্ষিণাত্যে ছিল পোলো নামক অভিজাত খেলার সবচেয়ে বেশি ময়দান।)

অবশেষে ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের দখলে চলে যায় হায়দারাবাদ। হায়দারাবাদী মুক্তিযোদ্ধা এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের ভারতীয় অস্ত্র আইন ও দেশদ্রোহ মামলা হয়। বেশীর ভাগের ফাঁসি হয়।এই অভিযান ব্যাপক বিপর্যয় বয়ে এনেছিল স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য। বিশেষ করে মারাথওয়ারা অঞ্চলের পরিস্থিতি হয়ে পড়েছিল খুবই ভয়ংকর।

‘হায়দারবাদ: একটি মুসলিম ট্র্যাজেডি’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে অধ্যাপক উইলফ্রেড ক্যান্টওয়েল স্মিথ বিবেকবান হিন্দু প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য উল্লেখ করে লিখেছেন— ‘যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর মুসলমানরা (গণহারে) ব্যাপক আঘাত ও পাশবিক হামলার শিকার হয়। ধ্বংসযজ্ঞের পর যারা বেঁচে ছিলেন তারাও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। তাদের হাজার হাজার ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় এবং উচ্ছেদ করা হয় কয়েক লাখকে। মুসলিম বাহিনীর সহযোগীদের কথিত সহিংসতার প্রতিশোধ নেয়ার অজুহাত দেখিয়েই এইসব নারকীয় অভিযান চালানো হয়েছিল।’ (১৯৫০ সালে প্রকাশিত দ্য মিডল-ইস্ট জার্নাল, খণ্ড-৪)

জাতিসংঘ সেদিন চুপ ছিল। এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক পেছানো হয়।

ভারত কতৃক দখলের পুর্বের হায়দারাবাদ।

স্বাধীন হায়দারাবাদের শেষ প্রধানমন্ত্রী স্যার মীর লায়েক আলী তার ‘ট্রাজেডি অব হায়দারাবাদ’ গ্রন্থে লিখেছেন— ভারত যখন তার ৬ ডিভিশন সৈন্য নিয়ে হায়দারাবাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, সে সময় হায়দারাবাদের স্থায়ী প্রতিনিধি জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলছিলেন— ‘ভারত আমার দেশ দখল করে নিচ্ছে। তোমরা একটা কিছু কর। হায়দারাবাদকে বাঁচাও।’ শক্তিশালী ভারত, তার বন্ধু যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কারণে সেদিন নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাবও নিতে পারেনি।

 

 


প্রিয় পাঠক, ‘দিন রাত্রি’তে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- ‘দিনরাত্রি’তে আপনিও লিখুন

লেখাটি শেয়ার করুন 

এই বিভাগের আরো লেখা

Useful Links

Thanks

© All rights reserved 2020 By  DinRatri.net

Theme Customized BY LatestNews